মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনচবির নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তালিকা চেয়েছে পুলিশ

চবির নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তালিকা চেয়েছে পুলিশ

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিরূপনে রচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ আছে কিনা এবং নিখোঁজ থাকলে তাদের তালিকা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে পুলিশ।  ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে এ চিঠি দেন স্থানীয় হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইসমাইল। এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ আছে কিনা, নিখোঁজ থাকলে তাদের তালিকা ও পরিচিতি, কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকে কিনা তামাদের জানাতে বলেছি। তবে এ বিষয়ে তথ্য পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো বিভাগ-ইনস্টিটিউট রয়েছে আর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ রয়েছে। হয়তো কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট তথ্য পাবো। ওসি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের নিজস্ব তদন্তে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ পাইনি। এদিকে পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও পরিচালকের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা। আগামী বৃহস্পতিবারের (২১ জুলাই) মধ্যে তাদের এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৮ জুলাই (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহের প্রাধ্যক্ষ, বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও পরিচালকদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকে বসবেন। পুলিশের পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও পরিচালকদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জঙ্গি মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর পর এবং বৃহস্পতিবার পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর ওইদিন বিকেলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি  বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা, প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী, সহকারী প্রক্টরবৃন্দসহ পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পুলিশের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে উপাচার্য শুধু মাত্র ‘সন্দেহজনক’ শিক্ষার্থীদের নজরদারিতে আনা নয়, যেসব শিক্ষক অনানুমোদিত ছুটি নিয়ে বাইরে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন তাদেরও নজরদারিতে আনার কথা বলেন। পাশাপাশি ‘সন্দেজনক’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নজরদারিতে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রদত্ত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পাদনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে এর মধ্যে গণমাধ্যমে খবর এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষার্থীর জঙ্গি সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়েছে।তাই যেকোন প্রকারে জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলো হাতে নিয়ে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ