হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত ১৫৪ ট্যানারি শিল্প মালিককে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত। মালিকপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে ১৭ জুলাই শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে ট্যানারির মালিকপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস ও ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী।
পরে মেহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, ১৭ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্টের আদেশ। ওই দিন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানোর আদেশও দিয়েছেন। এর আগে ২৭ জুন আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় বাংলাদেশ ট্যানারিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ও ফিনিশড লেদার অ্যাসোসিয়শনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়।
১৬ জুন আদালতের আদেশ অমান্য করে পরিবেশের দূষণ করায় হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর না করা পযন্ত ১৫৪ ট্যানারিকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন হাইকোর্ট। এ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ট্যানারিগুলোর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে ১৫৫ ট্যানারির তালিকা ১৬ জুন আদালতে দাখিল করেছিলো শিল্প মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে কেবল রিলায়েন্স ট্যানারি লিমিটেড ইউনিট-২ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান শিল্প সচিব। বাকি ১৫৪টি স্থানান্তর হয়নি।
এ বিষয়ে সোমবার রাতে রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে ট্যানারি মালিকরা সোমবার আবেদন করেছে। ২৮ জুন চেম্বার বিচারপতির আদালতে এ আবেদনের শুনানি হতে পারে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
দীর্ঘদিন ধরে ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় অন্য এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন। সরকার পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতের পরে ওই সময় সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও স্থানান্তর না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা করেন পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মনজিল মোরসেদ।
এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পরে গত বছরের ২১ এপ্রিল আদালতের তলবে হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন শিল্প সচিব। এর মধ্যে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল রাজধানীর হাজারীবাগে এখনও যেসব ট্যানারি ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের তালিকা চেয়েছিলো হাইকোর্ট।
আদালতের এ আদেশ অনুসারে শিল্প সচিবের পক্ষে আইনজীবী রইস উদ্দিন ১৫৫টি ট্যানারির তালিকা হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে মাত্র একটি ট্যানারি স্থানান্তর হয়। এরপর আদালত জরিমানার আদেশ দিয়ে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।




