প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে বিকালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ রটিয়ে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণদি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠ-বস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ নেতা সেলিম ওসমান। তবে সেলিম ওসমান বলেন, শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকাবাসীর রোষ থেকে তাকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তিনি। দশম শ্রেণির ছাত্র রিফাতের কথা বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে। সেই রিফাতই এখন ধর্ম নিয়ে ওই শিক্ষকের কটূক্তি করার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, স্যার তাকে মারধর করায় সে বিচার চাইতে কমিটির কাছে গিয়েছিল। মারধরের সময় ধর্ম নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
এদিকে এ ঘটনা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। পরে গণমাধ্যমগুলোয় তা আসার পর সারা দেশে এ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দাবি উঠে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
আর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করানো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। এটা একটা অপরাধ। যারা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের নিশ্চয়ই শাস্তি ভোগ করতে হবে। কারণ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার জন্য নয়। এটা আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করতে পারি না। এরই মধ্যে সেই প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে শ্যামল কান্তি ভক্তকে বরখাস্তের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্যামল কান্তি ভক্ত ওই বরখাস্তের চিঠি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। চিঠিতে শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেয়ার নাম করে অর্থ গ্রহণ, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য এবং বিদ্যালয়ের ছুটি ব্যতিরেকে অনুপস্থিত থাকা ও বিলম্বে বিদ্যালয়ে আসার অভিযোগ করা হয়েছে।




