শেষ মুহু্র্তে বদলে যাচ্ছে কর্ণফুলীতে আওয়ামীলীগের চার প্রার্থী। এই থানার পাঁচ ইউনিযনের মধ্যে এক জন ছাড়া বাকীদের মনোনয়ন প্রদান সংক্রান্ত চিঠি ফেরত দিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামীলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, শিকলবাহা ইউনিয়নে আবুল কালাম বকুলের নাম চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও স্থানীয় সাংসদ সাইফুজ্জামান চৌধুরী দুই পক্ষের তালিকাতেই ছিল। তাই তার মনোনয়ন চিঠি ফেরতের জন্য বলা হয়নি।
চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ছাবের আহমদ, চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, জুলধা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক, বড় উঠান ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল আলম এই চারজনের মনোনয়ন চিঠি ফেরতের জন্য বলা হয়েছে। রোববার তাদের চূড়ান্ত মনোনয়ন চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, চিঠি ফেরত নেওয়া অর্থ হলো মনোনয়নে পরিবর্তন আসছে। সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার সকালে নতুন সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি জানান। দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আওয়ামীলীগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির বিরুদ্ধে ‘মনোনয়ন বাণিজ্যের’ অভিযোগ এনে আনোযারা-কর্নফুলীর সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সমর্থকরা কয়েকদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করছে। দেশের বাইরে থাকা প্রতিমন্ত্রী জাবেদের অপেক্ষায় ছিলেন নেতাকর্মীরা। রোববার তিনি দেশে ফিরেন। অপরদিকে জেলা কমিটির অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এক তরফাভাবে তালিকা করেছেন। তাতে বর্তমান চেয়ারম্যােনদের অনেকেই স্থান পাননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জেলা আওয়ামী লীগের সাথে কর্ণফুলী থানা আওয়ামী লীগের কিছুদিন ধরে মতপার্থক্য ও বিরোধ চলে আসছিল। এরই মাঝে সম্মেলন ছাড়াই কর্ণফুলীর ৫ ইউনিয়নের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহ দুয়েক আগে থানা আওয়ামী লীগকে শো’কজ করে জেলা আওয়ামী লীগ। এদিকে, থানা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবকে নাকচ করে জেলা থেকে প্রস্তাবিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়াকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী থানায় আ’লীগের গ্রুপিং আরো ঘনীভূত হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র জানায়,কর্ণফুলী থানায় জেলা থেকে প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী রোববার ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ছাবের আহমদ, চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, জুলধা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক, বড় উঠান ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল আলম ও শিকলবাহা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম বকুলকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এদিকে শিকলবাহা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নাম সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের প্রস্তাবিত তালিকায়ও ছিল। তিনি ছাড়া জাবেদ অনুসারীদের প্রস্তাবিত অন্য চার প্রার্থী হলেন, চরপাথরঘাটা থেকে ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমদ, চরলক্ষ্যা থেকে নাজিম উদ্দিন হায়দার, জুলধা থেকে কর্ণফুলী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও বড়উঠান ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল্লা।
কর্ণফুলী থানা যুবলীগের এক নেতা জানান, মনোনযন পরিবর্তন হতে পারে এমন খবরে কর্ণফুলীতে জাবেদ সমর্থিতদের মধ্যে খুশির বন্যা বইছে। অনেক এলাকায় মিছিলও হয়েছে।




