রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদটপনৌযান ধর্মঘটে অচল খুলনা-মংলা বন্দর

নৌযান ধর্মঘটে অচল খুলনা-মংলা বন্দর

দেশব্যাপী নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে খুলনাঞ্চলে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে খুলনা ও মংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ের জন্য নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘট শুরু করে। নির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ফলে খুলনার বিআইডব্লিউটিএ, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এবং রুজভেল্ট জেটিতে অবস্থানরত কোনো জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয়নি। এ ছাড়া খুলনা লঞ্চঘাট থেকে কোনো নৌযান ছেড়ে যায়নি বা আসেনি। এমনকি মংলা বন্দর থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত কোথাও কোনো নৌযান চলছে না। ফলে এসব ঘাটে ছোট-বড় প্রায় ৬ শতাধিক নৌযান নোঙ্গর ফেলে অবস্থান করছে পণ্য ওঠানামার জন্য।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, খুলনা ও যশোরের নওয়াপাড়ার কার্গো বার্জ থেকে পণ্য নেওয়ার জন্য শত শত ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকলেও নৌযান শ্রমিকরা কাজ না করায় শিল্প নগরী খুলনা ও মংলা বন্দরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য বন্দরের জেটিতে আনা নেওয়া এবং বন্দর থেকে নদী পথে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহন বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে মংলা বন্দর থেকে সারাদেশে প্রধানত নদী পথে পণ্য পরিবহনের কারণে ধর্মঘটে বন্দরের কার্যক্রম  স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শুক্রবার সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে  বলেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নৌপথে চুরি-ডাকাতি বন্ধ ও নদী খননসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ের জন্য বুধবার মধ্যরাত থেকে নৌযানের (কার্গো, কোস্টার, বার্জ) শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের কাজ বন্ধ রেখে  ধর্মঘট পালন করছেন।

তিনি জানান, কেন্দ্রের ডাকা ধর্মঘট খুলনা ও মংলায় সর্বাত্বকভাবে পালিত হচ্ছে। নৌযান শ্রমিকদের  ধর্মঘট শুরু হওয়ায় শিল্পনগরী খুলনা ও মংলা বন্দরে অবস্থানরত সব ধরনের দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্যবোঝাই-খালাস ও পরিবহন কাজ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা ও মংলা বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে ।

তিনি আরও জানান, যশোরের নওয়াপাড়া থেকে খুলনার শিপইয়ার্ড পর্যন্ত প্রায় তিন শতাধিক এবং মংলা বন্দরে তিনশতের অধিক নৌযান নোঙ্গর ফেলে অবস্থান করছে পণ্য ওঠানামার জন্য। স্বাভাবিক সময় শুক্রবারও নওয়াপাড়া ছাড়া খুলনা-মংলায় পণ্য উঠানামার কাজ চলতো। দেলোয়ার হোসেন বলেন, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে বিকেল ৫টায়  মিছিল বের করে হাদীস পার্কে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বাহারুল ইসলাম বলেন, একই দাবিতে গত এক বছরে কয়েক দফা ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দিয়ে আবার সরকারের আশ্বাসে তা থেকে সরেও এসেছি আমরা। তিনি বলেন, শ্রমিকরা বর্তমানে ৪১০০ টাকা বেতন পায়। যা দিয়ে সংসার চলে না। যার কারণে আমরা দাবি করছি প্রত্যেক নৌশ্রমিককে নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কর্মস্থলে আহত   শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যয় ও চিকিৎসাকালে বেতন পরিশোধ।
আমাদের ন্যায্য দাবি না মানা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন মংলা শাখার কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান,  ধর্মঘটের আওতায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মংলা বন্দরের সকল প্রকার নৌ শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছে। লাইটারেজ, কার্গো, বার্জ, অয়েল ট্যাঙ্কার, কোস্টার থেকে শুরু করে সব ধরনের জাহাজী ও যাত্রীবাহী নৌযানের শ্রমিকরা এক যোগে এই ধর্মঘট পালন করছে। ফলে বন্দরে জাহাজ থেকে পন্য ওঠানামা এবং দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নদী পথে চলাচল সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে।  এদিকে নৌযান ধর্মঘটের ফলে খুলনা ও মংলা সমুদ্রবন্দরে অবস্থানরত সব দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্যবোঝাই-খালাস কাজ বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, বুধবার সচিবালয়ে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মালিক-শ্রমিক-সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মালিকপক্ষ বেতন বৃদ্ধির দাবি অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে আরও  ১৫ দিনের সময় চাইলে শ্রমিকরা ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে রাতে  ধর্মঘটের ডাক দেয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ