নগরীতে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের পক্ষে–বিপক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, অতঃপর পরস্পরের সঙ্গে প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন। এক পর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের দিকে তেড়ে এলেও শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলমের হস্তক্ষেপে শান্ত হন ডা. আফছারুল আমীন। এসময় তাদের পাশেই উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।
শনিবার সন্ধ্যায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ‘টেকসই জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. আফছারুল আমীন। এতে সভাপতিত্ব করেন আইইবি চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া ও নগর পরিকল্পনাবিদ আলী আশরাফ। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার তাড়া দেখিয়ে বক্তব্য শুরু করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘যখন বহদ্দারহাট, কদমতলী ও মুরাদপুর ফ্লাইওভার হচ্ছে তখন আমি মন্ত্রী থাকলে হয়তো নিরুৎসাহিত করতাম। করলেও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে করতাম। কিছু ফি দিলে চুয়েট–বুয়েট নিজেদের অনুকূলে সমীক্ষা প্রতিবেদন দেয়। বহদ্দারহাট ও কদমতলী ফ্লাইওভারে তেমন গাড়ি উঠে না। গাড়ি না উঠলেতো এক পর্যায়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ফ্লাইওভার ভেঙে ফেলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে। আগামীতে কি হয় তা দেখার বিষয়।’ এ সময় নগরীতে বিলবোর্ড উচ্ছেদ করার জন্য মেয়র আ জ ম নাছিরেরও প্রশংসা করেন তিনি।
যেভাবে বাকবিতণ্ডার শুরু :
ইঞ্জিনিয়ার মোশররফ হোসেনের বক্তব্য দেয়া শেষ হলে ডা. আফছারুল আমীন বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটকে ধন্যবাদ সুন্দর একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। যদিও আমরা এখানে প্রকৌশলীদের তুলনায় অপ্রকৌশলীরা বেশি। প্রকৌশলীদের মধ্যে বিভাজন আছে, তবু তারা একত্রিত হয়ে সুন্দর আয়োজন করেন। তার জন্য চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে ধন্যবাদ জানাবো। আসলে রাস্তাঘাট–ঘরবাড়ি যদি জনবান্ধব করতে হয় তাহলে প্রকৌশলীদের সাহায্য নিতে হয়। উনাদের সহযোগিতা ছাড়া একটি সুন্দর শহর হয় না এবং একটি সুন্দর দেশ হয় না। এটাই বাস্তবতা।
তিনি আরো বলেন, ‘টেকনিক্যাল বিষয় যেগুলো দেখলাম সেখানে বলতে হয় বাবু সুভাষ বড়ুয়া যে কথাগুলো বলছেন সেখানে বেশ পরিসংখ্যান এবং তথ্যভিত্তিক কথা বলেছেন। এই তথ্যগুলো আমরা আজকে শুনলাম। কারণ এখানে আলোচনায় শুনেছি, এই ধরনের আলোচনা আর কোনদিন হয় নাই এ চট্টগ্রামে। কিন্তু কাজ অনেক হয়ে গেছে। যেমন আমি মাননীয় প্রধান অতিথির কথার রেশ ধরে বলবো, যেগুলো হয়েছে সেগুলো তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। তখন আমরা অনেকে মন্ত্রী ছিলাম, আবার অনেকে এমপি ছিলাম। তাই এর দায়ভার তো আমাদেরও নিতে হবে’।
ডা. আফছারুল আমীন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের দেয়া বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এখন আমি যদি বলি যে আমি থাকলে হয়েছে, উনি না থাকলে হতো না। এটা তা হবে না। এটার দায়ভার তো মাননীয় প্রধান অতিথির উপরও পড়ে। রাজনৈতিক জায়গা থেকে রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে এটার দায়ভার আমাদেরকে নিতে হবে। কারণ, শেখ হাসিনা এগুলো করেছেন। এসময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলে উঠেন, ‘না না এখানে আমার আপত্তি আছে। আমাকেও বলতে দেন।’ প্রত্যুত্তরে ডা. আফছারুল আমীন বলেন, ‘আমার কথা আমাকে বলতে দেন। আপনি পরে বলেন। আমার কথা হল দায়–দায়িত্ব আমাদেরকে নিতে হবে। আমরা রাজনীতি করি। আমরা এমপি ছিলাম। কেউ মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু দায়–দায়িত্ব নিতে হবে। থাকলে হতো না। না থাকলে হতো এটা বলা যাবে না। এগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করেছেন। এসময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, ‘আমাকে বলতে দিন’।
কিন্তু ইঞ্জিনিযার মোশাররফকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ডা. আফছারুল আমীন বলেন, ‘আমাদের কথাগুলো শুনতে হবে। কাজগুলো কে করছে? কাজগুলো করছে সিডিএ এবং সিটি কর্পোরেশন। দায়–দায়িত্ব তাদেরও নিতে হবে। সিডিএ–সিটি কর্পোরেশনের বক্তব্যের পর আমরা বলতে পারি। ডা. আফছারুল আমীন বলেন, ‘আমরা অপ্রকৌশলী, তাই টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে আমাদের ভুল হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক দায়–দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। এই দায়–দায়িত্ব আমরা এড়াতে পারি না।’
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, ‘আামি একটু কথা বলি। লেট মি স্পিক। প্লিজ। আমি চট্টগ্রামের মন্ত্রী, চট্টগ্রামের এমপি এটাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই প্রজেক্টে কোন মন্ত্রী–এমপিকে ডেকে বলা হয়নি যে বহদ্দারহাটে ওভারপাস হবে। আমরা করতে চাই। একটা মিটিং ডেকেছে? আমাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ডেকে বলেননি। সিডিএতে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাও ডেকে বলেনি। তখন যারা মন্ত্রী ছিল, তখন তারাও এই প্রজেক্ট সম্পর্কে কোন আলাপ করে নাই’।
এসময় ডা. আফছারুল আমীন বলেন, ‘লালখান বাজারের যে ফ্লাইওভার সেখানে গত ২৬ মাসে আপনার কোন সম্পৃক্ততা নাই? গণপূর্ত মন্ত্রী হিসাবে কি কোন সম্পৃক্ততা নাই? আপনি কি বলতে চান আপনি কিছুই জানেন না? প্রধানমন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর দিয়ে ফেলেছেন। অথচ আজকে আমাদের বাবু সুভাষ বড়ুয়া একটি পরামর্শ দিয়েছেন। এটা ভেরি গুড।’
এসময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ডা. আফছারুল আমীনকে বলেন, ‘আমাকে বলতে দিন।’ তখন ডা আফছারুল আমীন বলেন, ‘আপনি সুভাষ বড়ুয়াকে দিয়ে, আইইবি দিয়ে তো এসব করিয়েছেন। পরিষ্কার আমাদেরকে বলা হয়েছে যে মন্ত্রী ইন্টারেস্টেড এই অনুষ্ঠানটি করার জন্য। গণপূর্ত মন্ত্রী ভেরিমাচ ইন্টারেস্টেড এই অনুষ্ঠানটি করার জন্য। যদি সাক্ষী চান তাহলে বসেন। এটার পর্দার অন্তরালে আপনি। সুভাষ বড়ুয়াকে দিয়ে এটা আপনি করিয়েছেন। এই অনুষ্ঠান আপনি করিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর দিল। কেন এটা নিয়ে কি আগে কথা হতো না? আপনি তো ২৬ মাস মন্ত্রী। আপনি তখন কথা বলেননি কেন। এখন আপনি দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।’
তখন ক্ষুব্ধ হয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলে উঠেন, ‘আপনাকেও তো ভাড়া করে আনা হয়েছে।’ প্রত্যুত্তরে ডা. আফছারুল আমীন বলেন, ‘আপনি সুভাষ বড়ুয়াকে ভাড়া করে এনেছেন’। এ অবস্থায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোলটেবিলে আমন্ত্রিতদের মধ্যেও। তখন তারা প্রশ্ন করে বলেন, ‘এ বিষয়ে আইইবি কি বলে?’ অনুষ্ঠান আয়োজকদের বক্তব্য জানতে হবে’। তখন আইইবি চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা প্রথমবার আয়োজিত অনুষ্ঠান নয়। এটা তৃতীয় অনুষ্ঠান। সবাইকে আমি দাওয়াত দিয়ে এনেছি’।
এরপর ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই ধরনের অনুষ্ঠান আমরা আগেও করেছি। মনে আছে আপনাদের?’ তখন ডা. আফছারুল আমীন বলে উঠেন, ‘এ কথাটা আপনার উইথড্র করা উচিত যে আমাদের কেউ ভাড়া করে এনেছে। আইইবি কাকে দাওয়াত দিয়েছে, তাকে জিজ্ঞেস করেন। মন্ত্রী হিসাবে আপনাকে মাফ চাইতে হবে। আপনি একজন এমপি কলিগকে এসব বলতে পারেন না। আপনি বুয়েট ঘুষ খায়, চুয়েট ঘুষ খায় সে কথা বলেন। আরো যে অনেকে ঘুষ খায়, অনেকে বড় বড় মেগা প্রজেক্ট নিয়ে ঘুষ খায় তাদের কথা কে বলবে? মন্ত্রী হিসাবে, সিনিয়র নেতা হিসাবে আপনাকে ভাড়া শব্দটা উইথড্র করতে হবে’।
এ পর্যায়ে ডা. আফছারুল আমীন উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তিনি ইঞ্জিনিয়ার মোশারফের দিকে তেড়ে আসতে চাইলে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। এসময় ডা. আফছারুল আমীনকে আসন থেকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দৈনিক আজাদীকে বলেন, তখন ডা. আফছারুল আমীন আঞ্চলিক ভাষায় বলে উঠেন, ‘আ্যাঁই চাটগাঁইয়া। অ্যাঁইও কম ন।’ এ পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল শুরু হয় এবং অনুষ্ঠানের বাম পাশ থেকে ডা. আফছারুল আমীনের নামে অনেককে োগান দিতে দেখা যায়। এসময় ডা. আফছারুল আমীন এবং ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অনুসারীরা হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
অতঃপর হাত মেলালেন তারা :
হট্টগোল বন্ধ হলে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া বিষয়টিকে অনাকাঙিক্ষত বলে এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেছে তা আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমাদের মধ্যে কোন ভুল বোঝাবুঝি নেই। যা কিছু হয়েছে তা ভুলে গিয়ে আপনারা মনে করবেন যে কিছুই হয় নি।’ এসময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হাত মেলান ডা. আফছারুল আমীনের সঙ্গে। আঞ্চলিক ভাষায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, ‘কি আঁরার মধ্যে মিল–মোহাব্বাত আছে নি’।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ আরো বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে একটি সুষ্ঠু আলোচনার ধারা তৈরি করার চেষ্টা করেছিলাম। যদি কোনখানে আমার ভুল হয়ে থাকে, আমার আলোচনার মধ্যে কোন ভুল হয়ে থাকে সেটা আপনারা নিজেরাই দেখবেন। তবে আমি একজন প্রকৌশলী হিসেবে এবং ছয়বার এমপি হিসেবে যেটা মনে করি, গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছুর ব্যাপারে আমাদের সাথে আলাপ হলে নিশ্চয়ই জানতাম। সিডিএর যা কিছু কর্মকাণ্ড তা যদি হোল্ড করি, যদিও এটা আমার অধীন, যেগুলো হয়ে গেছে এগুলোর বিষয়ে আমরা যারা চট্টগ্রামের এমপি ছিলাম আমাদের সাথে এ বিষয়ে কোন আলাপ–আলোচনা হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন ওই ফ্লাইওভার হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, মুরাদপুর ফ্লাইওভার অসম্পূর্ণ। এটাকে সম্পূর্ণ করার জন্য বিমানবন্দর পর্যন্ত নিতে হবে। আমার অনুরোধে তিনি সেদিন ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন আমাদের এক্সপার্ট ওপিনিয়ন নেয়া দরকার। যা হওয়ার হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমনি ফিজিবিলিটি রিপোর্ট কেউ দেয় না। এমনি কেউ দেয় না। এজন্য পে করতে হয়। সুতরাং পেমেন্ট করলেই আমরা যা চাই তাই আমাদের দেয়। আমি তাই বলেছি।’
ডা. আফছারুল আমীনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এখানে মাননীয় এমপি আছেন যিনি সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। আমি ৭০ সাল থেকে এমপি হয়ে আসছি এবং এখনো আছি। আমাদের যা হয়ে গেছে তা অনাকাঙিক্ষত। চট্টগ্রামকে সুন্দর করতে হলে আমার এমপি এবং মেয়রেরও সহযোগিতার প্রয়োজন আছে। এখানে রাগারাগির কিছু নাই। যেটা সুন্দর সেটাই আমরা করবো। আলাপ আলোচনা করলে যা সুন্দর তা বেরিয়ে আসবে। এটা চট্টগ্রামের জন্য ভালো হবে। সুন্দর হলে সাবেক মন্ত্রীও সহযোগিতা করবেন এটা আমরা চাই।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিন :
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, ‘এখানে পক্ষে–বিপক্ষে আলোচনা হয়ে গেছে। তাই যেসব আলোচনা এসেছে তা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি আলাপ করার জন্য মোশাররফ ভাইকে অনুরোধ করবো এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষয়গুলোর সমাধান হবে। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, অনাকাঙিক্ষত ঘটনার পর সাথে সাথে আমরা মিলে গেলাম। এটাই আমাদের বড় অহংকারের বিষয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ভার নিজ হাতে নিয়েছেন এবং এজন্য বিভিন্ন প্রজেক্ট দিচ্ছেন। এইসব প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম সমৃদ্ধ হবে।’
আমার বক্তব্য শুনুন :
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বক্তব্য শুরু করলে সভাস্থল ত্যাগ করার জন্য উঠে দাঁড়ান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ। এসময় আবদুচ ছালাম বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী আপনাকে আমার বক্তব্য শুনতে হবে। এক মিনিট সময় দিতে হবে। কারণ এখানে অনেক এজেন্ডা থাকলেও বন্দুকের তীর ছিল আমার দিকে। ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সিডিএর উন্নয়ন একদিনের জন্যও বন্ধ হয় নি। আজ মাস ট্রান্সপোর্টের কথা বলা হচ্ছে। আমি বলবো মাস ট্রান্সপোর্টের জন্য যেসব সড়ক সম্প্রসারিত করা দরকার ছিল এবং যেগুলোকে আমরা ফিডার রোড বলে থাকি তা আমরা সম্প্রসারিত করেছি। আমি বলবো আপনারা মাস ট্রান্সপোর্ট বাস্তবায়ন করেন। আমাদের প্রকল্পের সাথে মাস ট্রান্সপোর্টের কোন সাংঘর্ষিক কিছু নেই।
আফছার ভাই অনর মানুষ আইস্যে :
সন্ধ্যা সাতটা বার মিনিটে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ। এসময় আইইবি ভবনের সামনের মাঠে জড়ো হয়ে ডা. আফছারুল আমীনের নামে স্লোগান দিতে থাকে তার সমর্থকরা। তারা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফকে আইইবি ভবন থেকে বের হতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। পরে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ আবারো ফিরে আসেন অনুষ্ঠানস্থলে। তিনি এসে বলেন, ‘আফছার ভাই অনর মানুষ আইস্যে।’ তিনি ডা. আফছারুল আমীনকে অনুরোধ করেন গাড়িতে তুলে দেয়ার জন্য। পরে তিনি মেয়র আ জ ম নাছির, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এবং ডা. আফছারুল আমীনসহ একসাথে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন এবং তারা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে গাড়িতে তুলে দেন। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন স্থপতি তসলিম উদ্দিন ও জেরিনা হোসেন।




