সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়বুধবার রিভিউ আবেদন করবেন মুজাহিদ

বুধবার রিভিউ আবেদন করবেন মুজাহিদ

চূড়ান্ত রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে বুধবার আপিল বিভাগে আবেদন জানাবেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করে এসে একথা জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় শিশির মনিরের নেতৃত্বে মুজাহিদের পাঁচ আইনজীবী জেলগেটে আসেন। এরপর তারা কারাগারের ভেতরে ঢোকেন। শিশির মনির ছাড়া অন্য চার আইনজীবী হলেন- মসিউল আলম, এহসান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক, মতিউর রহমান আকন্দ ও আসাদ উদ্দিন। সাক্ষাত শেষে বিকেল চারটার দিকে বের হয়ে জেলগেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিশির মনির। তিনি জানান, রিভিউ আবেদন চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আধা ঘণ্টা সাক্ষাত করেছি আমরা। বুধবার সকাল দশটায় রিভিউ আবেদন দাখিল করবো আপিল বিভাগে।এর আগে গত ৩ অক্টোবর সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করে রিভিউ আবেদনের বিষয়ে দিক-নির্দেশনা নিয়ে আসেন তার আইনজীবীরা।

দু’টি মূল পয়েন্টে তারা রিভিউ চাইবেন বলে জানিয়ে শিশির মনির বলেন, প্রথমটি হচ্ছে, তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির কোনো তালিকায় তার (মুজাহিদ) নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাহলে তিনি আলবদর কমান্ডার হলেন কি করে? দ্বিতীয়টি হচ্ছে, একাত্তরের ২৩ বছরের একজন ছাত্র ও বেসামরিক ব্যক্তি কিভাবে সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর প্রধান হন?

গত ১৬ জুন মুজাহিদের আপিল মামলার সংক্ষিপ্ত চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। ৩০ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

০১ অক্টোবর এ চূড়ান্ত রায় পৌঁছে দিয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে জারি করা তার মৃত্যু পরোয়ানা মুজাহিদকে পড়ে শোনানো হয়। আইন অনুসারে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিন অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন মুজাহিদ।  মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন, বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। ওই বছরের ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন তিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজার প্রেক্ষিতে আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ