বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে কারো কারো ভালো লাগে না, এমনই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিদেশে বসে তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ ও ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করে এফবিসিসিআই। ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরও কোন কোন পণ্য বিদেশে রফতানি করতে পারি গবেষণা করে তা বের করুন। এর মধ্য দিয়ে শিল্প উৎপাদন করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করতে হবে। দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে লাভবান কিন্তু ব্যবসায়ীরাই হবেন। বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভৌগলিক পরিবেশ বিবেচনা করে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। বাজেট আগের চেয়ে চার গুণ বৃদ্ধি করেছি আমরা। গ্রামীণ পর্যায়ে উন্নয়ন হচ্ছে এখন। আয় বৈষম্য কমে এসেছে। ৫৭ থেকে কমে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ দারিদ্র্যের হার এখন। বৈদেশিক রির্জাভ এখন অনেক বেড়েছে। বেসরকারিখাত ব্যাপকভাবে উন্নত করে দিয়েছি আমরা। সব কিছুতেই বেসরকারিখাতকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এতে বিস্তৃতিও বাড়ছে। ‘আমি ব্যবসা বুঝি না, ব্যবসা করিও না। একটাই বুঝি দেশের মানুষের আয়-উন্নতি। প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগ হয়েছে আগামীতে ৭ ভাগ করবো আরও এগিয়ে যাবো’। এ সময় দেশে আরও বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে ব্যবসায়ীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, যখনই বাংলাদেশ একটু ভালোভাবে এগিয়ে যায় তখনই অনেকের পছন্দ হয় না। এতে ক্ষতি তো দেশেরই হয়। কী লাভ এমনটা করে, প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, খালেদা জিয়া টানা ৯৩ দিন অবরোধ করেছেন। তা বাতিলও করেননি। এখন আর এর কার্যকারিতা নেই। দেশের মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমরা সৃষ্টি করি বিএনপি-জামায়াত ধ্বংস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী বিদেশে বসে এখন বিদেশিদের হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। এতে দেশের মানুষের কষ্ট, দেশের ক্ষতি, কী লাভ এসব করে! বিদেশিদের খুন যেই করুক মাফ হবে না। বিদেশি হত্যা করে ভাবমূর্তি নষ্ট করবে তাদের ছেড়ে দেবো তা হতে পারে না। জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং নেবে। শন্তিপূর্ণ ব্যবস্থা বিরাজমান রাখতে চাই দেশে। দেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে চাই। নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা মানুষও দেশে গৃহহারা থাকবেন না। একটা শিশুও রাস্তায় ঘুরবে না। এদেশ ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত হবে। ‘আমার নেওয়ার কিছু নেই, আমি সব হারিয়েই এসেছি বাংলায়। শুধু মাত্র বাংলার মানুষকে এগিয়ে নিতে, কিছু দিতে। শুধু একটা কথাই মনে রাখবেন- বাংলাদেশ নিম্ন থাকবে না, উচ্চ হবেই’।




