মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়আইভী রহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আইভী রহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ নারীনেত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বেগম আইভী রহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী । ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় স্মরণকালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভৈরব রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভৈরব রেলস্টেশনের আওটারে আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন ও ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া এবং উপজেলা পোস্ট অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এই বর্বরোচিত হত্যাকা-ের ১১ বছর পার হয়েছে কিন্তু ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার শেষ হয় না। এতে নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আইভী রহমান ১৯৪৪ সালের ৭ জুলাই ভৈরবের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তৎকালীন বরেণ্য আওয়ামী লীগ নেতা (পরে বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি) প্রয়াত জিল্লুর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার বাবা জালালউদ্দিন আহমেদ ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ। সেই সঙ্গে  প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। মা হাসিনা বেগম একজন আদর্শ গৃহিণী। আট বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে আইভী ছিলেন পঞ্চম। বিবাহিত জীবনে তিনি এক ছেলে পাপন, দুই মেয়ে তানিয়া ও ময়না এবং স্বামী জিল্লুর রহমানকে নিয়ে সুখেই ছিলেন।
স্বাধীনতার আগে আইভী রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির বর্ণাঢ্য জীবন শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শোষিত বাংলা ও বাঙালি  জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি তখন ছাত্রলীগের প্রথম সারির নেত্রী ও নীতিনির্ধারক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন আইভী রহমান। ১৯৭১ সালে বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ভারত গিয়ে সশস্ত্র ট্রেনিং নেন। ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হন। এর আগে আইভী রহমান মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আইভী রহমান রাজনীতি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত ছিলেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মহিলা সংস্থা ও জাতীয় মহিলা সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য আইভী রহমান তার নিজ বাড়ি ভৈরবে ছিলেন জনপ্রিয় এক ব্যক্তিত্ব। ভৈরবের যুবসমাজ তাকে আইভী আপা বা ভাবী বলে সম্বোধন করতেন। তার প্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ ছাড়াও ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে তিনি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় তিনি ভৈরবের বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে হাজির হন। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে ১৭ আগস্ট ভৈরবে বন্যার নোংরা পানিতে নেমে জলাবদ্ধ মানুষ দ্বারে দ্বারে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে  দেন। আইভী রহমানের স্মৃতিচারণ করে তার দেবরের বউ ইয়াছমিন বেনু, ননদ কহিনূর শাখাওয়াত ও নিকটাত্মীয় আতাউর রহমান কামাল বলেন, মাতৃতুল্য নারীনেত্রী হারিয়ে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকাকালীন সংগঠন করে আন্তর্জাতিক যেসব পুরস্কার পেয়েছেন, আজ বেঁেচ থাকলে আন্তর্জাতিক মানের নেত্রী হতেন। সরকারের কাছে আইভী রহমানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন নিকটাত্মীয়রা।
  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ