মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েশেরপুরের ৪০ গ্রাম প্লাবিত

শেরপুরের ৪০ গ্রাম প্লাবিত

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ৬টি ইউনিয়নের অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত ৩ দিনের ভারী বর্ষণে ও উজানের পাহাড়ি ঢলে রোববার সকাল পর্যন্ত এসব এলাকা প্লাবিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, এসব এলাকার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, মসজিদ, কয়েক হাজার হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত, মরিচ, বেগুন, শাক-সবজির ক্ষেত, বীজতলা, শতাধিক মৎস্য খামার ও পুকুর পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে আছেন কয়েক শতাধিক পরিবার। সূত্র জানায় উপজেলার সীমান্তবর্তী সিংগাবরুনা, রানীশিমুল, কাকিলাকুড়া, তাতিহাটি, গরজরিপা ও গোসাইহাটি  ইউনিয়নের মাটিমাটা, সিংগাবরুনা, গোবিন্দপুর, বরইকুচি, মাধবপুর, ভায়াডাঙ্গা, টেংগরপাড়া, বিলভরট, চক্রপুর, হালুহাটি, বালিজুরি, খাড়ামোড়া, রাঙ্গাজান, শিমুলকুচি, রানীশিমুল, কন্টিপাড়া, বকচর, গেরামারা, ভুতনিকান্দাসহ ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পানি বৃদ্ধির কারণে আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দিসহ নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এদিকে, রাস্তঘাট ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকার লোকজন গরু-মহিষসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভায়াডাঙ্গা বাজার তলিয়ে যাওয়ায় দোকানিরা মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। বকচর গ্রামের মৎস্য খামার মালিক দেলোয়ার জানান,  তিনি ১৫ একর জমিতে মাছের খামার করেছেন। পানিতে ডুবে যাওয়ায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তার।হালুহাটি গ্রামের মোস্তফা বলেন, ৪০ একর জমিতে ৪টি পুকুরে মাছ চাষ করেছি। সবগুলো পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এফ এম মোবারক আলী জানান, এবার উপজেলায় ১৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। বন্যার পানিতে ৫ হাজার ৩২৬ হেক্টর জমির ধান ডুবে গেছে। বন্যার পানি বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ