পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীর উপর নির্মিত শেখ রাসেল সেতু উদ্বোধন হচ্ছে বৃহস্পতিবার । এদিন সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতু উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। স্থানীয়রা আশা করছেন, সেতুটি চালু হলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে। ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এই অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর। তবে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে সেতুটি উদ্বোধন হচ্ছে। এছাড়া এই সেতুতে আলোর ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা ৭২ কিলোমিটার পথের ২২ কিলোমিটারের মধ্যে আন্ধারমানিক, সোনাতলা ও খাপড়াভাঙ্গা নদী রয়েছে। এতোদিন হাজার হাজার মানুষকে ফেরি ও ট্রলারের মাধ্যমে এসব নদী পার হতে হতো।
তাছাড়া ফেরি স্বল্পতার কারণে পার হওয়ার অপেক্ষায় ঘাটে থাকতে হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের। এই সেতুর পাশেই আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর। ফেরি সংকটের কারণে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করতে ব্যবসায়ীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলার কলাপাড়া উপজেলা সফরে এসে এক জনসভায় ওই তিনটি নদীর উপর শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল নামে তিনটি ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালে পর্যায়ক্রমে সেতু তিনটির দরপত্র আহ্বান করার পর কাজ শুরু হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় একটি সেতুর কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে শেখ রাসেল সেতুর কাজ শেষ হলেও বাকি দু’টির কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, ২৪ কোটি ৮৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে। এরপর ৩৬ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ হয় চলতি মাসে। ৪০৮ দশমিক ৩৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুতে নয়টি স্প্যান রয়েছে। সেতুতে আলোর ব্যবস্থা না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে যে কোনো সময় আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার জানান, আলোর ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সজল জানান, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এই সেতু হওয়ায় মাছ সরবরাহ সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে। সময়ও লাগবে কম। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বাংলানিউজকে জানান, সেতু উদ্বোধনের ফলে পর্যটন স্পট কুয়াকাটার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক। তিনি জানান, সেতু হওয়ায় শুধু শীত নয় ১২ মাসই কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে।




