বিচার বিভাগ নিয়ে ‘কুৎসা রটনামূলক’ কলাম প্রকাশের বিষয়ে দৈনিক জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে জারি করা রুলের শুনানি সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বৃহত্তর (লার্জার) বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। পত্রিকাটির সম্পাদক-প্রকাশক সম্পাদক-প্রকাশক ও মুদ্রাকর মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ) এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে ওই কলামের বিষয়ে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী সম্পর্কে জনকণ্ঠে প্রকাশিত সকল প্রতিবেদনের কপিও আনতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে রোববার এসব আদেশ দেন। একইসঙ্গে জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে রুল জারির পর থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কপি আনতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আদেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের তলবে রুলের জবাব দিতে হাজির ছিলেন জনকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়। জনকণ্ঠের পক্ষে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড শিরিন আফরোজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত ১৬ জুলাই ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা।। পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশ করে দৈনিক জনকণ্ঠ। এর লেখক নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।
জনকণ্ঠের ওই কলামের একটি স্থানে বলা হয়েছে, ‘পিতা মুজিব! তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদেরকে কি কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাৎ দেয়। বিচারকের এথিকসে পড়ে! কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। যে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত-বিএনপির অর্গানাইজেশান। কেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী আগে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। কী ঘটতে যাচ্ছে সেখানে। ক্যামেরনই পরোক্ষভাবে বলছেন সকল সন্ত্রাসীর একটি অভয়ারণ্য হয়েছে লন্ডন’।
কলামের এসব বক্তব্যে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ওই দু’জনের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২৯ জুলাই সুয়োমোটো রুল জারি করেন আপিল বিভাগ। ৩ আগস্ট হাজির হয়ে এ রুলের জবাব দাখিলের জন্য তাদেরকে তলব করা হয়। ৩ আগস্ট তারা হাজির হয়ে জবাবের জন্য প্রথমে তিন মাস এবং পরে দুই সপ্তাহ সময় চাইলে তা নামঞ্জুর করে রোববারের মধ্যে জবাব দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।




