রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিক্রি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ ও বিষাক্ত জেলি মিশ্রিত চিংড়ি জব্দ করেছেন র্যাব-২ এর সদস্যরা। রোববার ভোর থেকে কারওয়ানবাজারের মাছের আড়তে র্যাব-২ ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-২ সদর দপ্তরের কোম্পানি কমান্ডার ড. দিদারুল আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি এখানে বিক্রি নিষিদ্ধ পিরানহা ও জেলি মিশ্রিত চিংড়ির বড় একটি চালান আসছে। এটা জানতে পেরে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযান শুরু করা হয়েছে। এরইমধ্যে বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দ করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে র্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন সঙ্গে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন জানান, মাছের পাঁচ পাইকারি ব্যবসায়ীকে আটক করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ পিরানহা এবং বিষাক্ত জেলি মিশ্রিত চিংড়ি বিক্রির উদ্দেশে তা সংরক্ষণের অপরাধে তাদের এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পিরানহা সংরক্ষণকারী এক মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাহবুব (৩৫), এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত পাইকারি চিংড়ি ব্যবসায়ী বশির আহমেদ (৪৪), ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত দেবাশীষ বিশ্বাস (২২) এবং পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত সাইদুল ইসলাম (২৭) ও শফিকুল ইসলাম (২২)।
ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন জানান, পাইকারি এসব মাছ ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় চিংড়ি মাছের মাথা ও লম্বা পায়ের মধ্যে ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে বিষাক্ত জেলি ও পানি ঢুকিয়ে দেয়। যা চিংড়ি মাছকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখে। তিনি বলেন, চিংড়ির মাথায় ও পায়ে ঢুকানো জেলি মিশ্রিত পানি মাছের স্বাভাবিক ওজনকে বৃদ্ধি করে। ফলে ক্রেতা সাধারণ এই মাছ কিনে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং আর্থিকভাবে প্রতারিত হন।




