বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়সাংসদপুত্র রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র

সাংসদপুত্র রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র

রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় সাংসদপুত্র বখতিয়ার আলম রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশিষ্ট সাধারণ শাখায় (জিআরও) মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস।

দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে এক ব্রিফিংয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, এই মামলায় রনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। কিন্তু যে সাক্ষ্যপ্রমাণ মিলেছে তাতে তাঁর জবানবন্দি না হলেও মামলার কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে যে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি রনির মা সাংসদ পিনু খানের গাড়ি। এই বাহনটি অপরাধের বাহনটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এমন প্রমাণ মেলেনি। কারণ হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে ওই গাড়িটি বের করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডটি আকস্মিকভাবে হয়েছে। এই গাড়ির কী হবে, এ ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, প্রাডো গাড়ির চালক ইমরান ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে তাঁকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছে। এ মামলায় মোট ৩০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁদের মধ্যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুজনের সাক্ষ্য আছে।

বখতিয়ারের মা পিনু খান সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ও মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস  আদালতে গাড়ির চালক ইমরানের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিকে সাক্ষীর জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করতে আদালতে আবেদন করবেন। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ গত বুধবার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করার এবং বখতিয়ারকে একমাত্র আসামি করার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ইমরান ফকির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। এতে তিনি জড়িত নন। তাই তাঁকে মামলার প্রধান সাক্ষী করা হয়েছে।

এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বখতিয়ারকে (৪২) তিন দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। ডিবি সূত্র বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুলি করার কথা জানালেও আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। বর্তমানে তিনি কারাগারে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সূত্রবিহীন ও আলোচিত এই মামলার খুঁটিনাটি ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তিন মাসেরও কম সময়ে তদন্ত শেষ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে জানানো হয়, এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া গাড়িচালক ইমরান ফকির গত ১ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে (পৌনে দুইটা) বখতিয়ারকে বহন করা প্রাডো গাড়িটি নিউ ইস্কাটন রোডে যানজটে আটকে পড়ে। এতে চালকের পাশের আসনে বসা নেশাগ্রস্ত বখতিয়ার বিরক্ত হয়ে তাঁর লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে চার-পাঁচটি গুলি করেন। বখতিয়ারের বন্ধু আবাসন ব্যবসায়ী কামাল মাহমুদ ও মো. কামাল ওরফে টাইগার কামাল ঘটনার সময় গাড়িটির পেছনের আসনে বসা ছিলেন। তাঁরা আদালতে জবানবন্দিতে বলেন, বখতিয়ার তাঁর পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছেন। ঘটনার আগে বখতিয়ারের সঙ্গে থাকা তাঁর আরেক বন্ধু জাহাঙ্গীর আলমও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ব্যালাস্টিক প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের আদালতে জবানবন্দি, বস্তুগত প্রমাণ, তদন্ত ও অন্যান্য সূত্র থেকে ডিবি পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, বখতিয়ারের এলোপাতাড়ি গুলিতে দৈনিক জনকণ্ঠের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী (৪০) ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম (২৫) আহত হন। পরে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

হাকিম ১৫ এপ্রিল বিকেলে মারা যান। সেদিন রাতে হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, গাড়ির জানালা খুলে একজন লোক এলোপাতাড়ি চার-পাঁচটি গুলি ছুড়েছে। ইয়াকুব ২৩ এপ্রিল রাতে মারা যান। ইয়াকুবের বুকে গুলি বিদ্ধ হয় এবং হাকিমের পেছনের অংশে গুলি ঢুকে নাভির নিচ দিয়ে বেরিয়ে যায়। নির্মাণাধীন ভবন এলএমজি টাওয়ারের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ