কোকেন আমদানির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সঙ্গে চোরাচালান সংক্রান্ত বিশেষ ক্ষমতা আইনও সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলম এ নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি ও মহানগর পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ নির্দেশের ফলে এখন থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সঙ্গে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার তদন্ত হবে। ফলে কোকেন মামলায় মাদক আইনের সঙ্গে চোরাচালানের বিষয়টি তদন্তে আর কোন বাধা থাকলো না। এর আগে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলমের আদালতে মহানগর পিপি মামলায় নতুন ধারা সংযোজনের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১ (খ) ধারার সঙ্গে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (বি) ধারার কথা উল্লেখ করেন।
তরল কোকেন সন্দেহে গত ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার বন্দরে সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সানফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনা প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে উন্নত ল্যাবে কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২৭ জুন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, কেমিক্যাল পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। চালানটি নগরীর খাতুনগঞ্জের খান জাহান আলী লিমিটেডের নামে বন্দরে আনা হয়। নগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেলকে গ্রেপ্তার করে। ২৮ জুন নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১(খ) ধারায় জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরে ওই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন, গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (করপোরেট, বিক্রয় ও বিপণন) এ কে আজাদ, একটি ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এবং সানফ্লাওয়ার তেলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সোহেল।




