বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়উত্তরা-গাজীপুর বিআরটি প্রতি মিনিটে পরিবহন পাবেন যাত্রীরা

উত্তরা-গাজীপুর বিআরটি প্রতি মিনিটে পরিবহন পাবেন যাত্রীরা

গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক ‘গ্রেটার ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প’-এর আওতায় যোগ হতে যাচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে উত্তরা পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লাইন নির্মাণ করা হবে। এয়ারপোর্ট থেকে উত্তরা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে বিআরটি’র আলাদা দুটি লেন তৈরি করা হবে। এই লেন দিয়ে শুধু বিআরটি’র ১০০টি বাস চলাচল করবে। এই লেনে অন্য কোনো পরিবহনের চলার কোনো সুযোগ নেই। এতে করে যাত্রীরা এক মিনিট অন্তর অন্তর বাস সার্ভিস সুবিধা পাবেন। এই ব্যবস্থা বাংলাদেশে প্রথম। বর্তমানে পেপার ওয়ার্কিং শেষ হয়েছে। আগামী মাসে এ সংক্রান্ত কাজের টেন্ডার ডাকা হবে। ২০১৮ সাল নাগাদ ২০ কিলোমিটার রুটটি উন্মুক্ত করা হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) সূত্র জানায়, প্রকল্পের মাধ্যমে গাজীপুর, টঙ্গী এবং উত্তরা এলাকায় যানজটমুক্ত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রকল্পের আওতায় ২০ কিলোমিটার বিআরটি লাইন, ৩১টি স্টেশন, গাজীপুরে একটি বিআরটি ডিপো, সাতটি ফ্লাইওভার নির্মাণ, টঙ্গীসেতু নির্মাণ, ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাস, যানবাহন (৯টি জিপ, তিনটি পিকআপ ও ৫টি মোটরসাইকেল), ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে ৪ দশমিক ৫৫ হেক্টর। অন্যদিকে, পরামর্শক ও ইউটিলিটি লাইন প্রতিস্থাপনও করা হবে।

সওজ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আফিল উদ্দিন বলেন, বিআরটি’র জন্য এবার প্রথম আলাদা লেন চালু করা হচ্ছে। ব্রাজিল ও চীন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যানজট নিরসন ও যাত্রী ভোগান্তি রোধ করেছে। আমার বিশ্বাস, আমরাও এ কাজে সফল হবো। উত্তরা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি’র বাস আসা-যাওয়ার জন্য আলাদা লেন তৈরি করা হবে। বিদ্যমান সড়কের দুই পাশ বৃদ্ধি করা হবে। এরপরে আমরা দুটি লেন নিয়ে নেবো। তিনি বলেন, এই লেনে শুধু বিআরটি বাস চলবে। প্রতি এক মিনিট পর পর বাস চলবে। প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, গাজীপুর থেকে টঙ্গী (চেরাগ আলী মার্কেট) পর্যন্ত একলেন বিশিষ্ট বিআরটি লেন এবং টঙ্গী থেকে এয়ারপোর্ট রেলস্টেশন পর্যন্ত দুই দুই চারলেন বিশিষ্ট বিআরটি সড়ক নির্মাণ করা হবে।  ঢাকার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। এ জনসংখ্যা প্রতিবছর ৪ দশমিক ২ ভাগ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতে ঢাকার নাগরিকদের জন্য সুবিধা ও বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হয়নি।

ইতোপূর্বে, ২০০৫ সালে এসটিপি’র আওতায় ঢাকা শহরে যানজট ও পরিবহন সমস্যা নিরসনের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সমীক্ষা পরিচালিত হয়। এ সমীক্ষায় ৬টি করিডোর চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে তিনটি এমআরটি এবং তিনটি করিডোর বিআরটি’র জন্য। এসব স্থানে লাইন স্থাপনের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করা হয়। বিআরটির তিনটি লাইন হচ্ছে- বিআরটি-১- উত্তরা-প্রগতি সরণী-কমলাপুর-সায়েদাবাদ, বিআরটি-২- গাবতলী-মিরপুর-ধানমণ্ডি-সায়েদাবাদ এবং বিআরটি-৩ হচ্ছে- এয়ারপোর্ট-মহাখালী-সায়েদাবাদ-সদরঘাট। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বিআরটি-৩ এর বর্ধিত অংশ হিসেব গাজীপুর-টঙ্গী-এয়ারপোর্ট রুটে বিআরটি স্থাপিত হবে। পর্যায়ক্রমে সব রুটকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে, ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৩৮৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে মেটানো হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফ্রান্স ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটিজ ঋণ সহায়তা দেবে। প্রকল্প প্রসঙ্গে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)’র নির্বাহী পরিচালক কায়কোবাদ হোসেন বলেন, নগরীর যানজট নিরসনেই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উত্তরা থেকে গাজীপুর সড়ককেও যুক্ত করা হয়েছে। এই রুটের যাত্রীরা এক মিনিট পর পর আধুনিক বাস সার্ভিস পাবেন। এই প্রথম বাংলাদেশে এমন একটি অভিনব যাত্রী সেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ