বিচার বিভাগে দলীয়করণের ফলে বিরোধী নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সুবিচার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ রোববার বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া এই অভিযোগ করেন। রাজধানীর লেডিস ক্লাবে ওই ইফতারের আয়োজন করা হয়। মাগরিবের আজানের সময় অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে পৌঁছান খালেদা জিয়া। ইফতার শেষে তিনি বক্তব্য দেন। ক্ষমতাসীনদের স্বৈরাচার ও জালেম আখ্যা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের বিদায় করা হবে। এ জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আসুন পবিত্র রমজানে দোয়া করি, যাতে আল্লাহ জালেমদের অতি দ্রুত বিদায় করে।’
সব জায়গায় দলীয়করণের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া বলেন, বিচার বিভাগে দলীয়করণ করা হয়েছে। দলীয় লোকদের বিচারক পদে বসানো হয়েছে। ফলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও জনগণ সুবিচার পায় না। আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যত অপরাধই করুক তাদের ধরা হয় না, শাস্তি হয় না। পুলিশ বাহিনীর কড়া সমালোচনা করে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, পুলিশের কিছু সংখ্যক সদস্য মানুষ গুম করে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ক্রসফায়ার বা জেলে দেওয়া হয়। তারা ব্যবসা শুরু করেছে। তিনি বলেন, পুলিশের হাত এখন আইনের হাতের চেয়েও লম্বা হয়ে গেছে। তারা বলে, তারাই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। বোমা মেরে, গাড়ি পুড়িয়ে, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার করে আন্দোলন দমন করেছে।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, এখন সব সরকারি পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা এসব বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে গেছে। আইনের শাসন নেই, জান-মালের নিরাপত্তা নেই। ইফতারে অন্যদের মধ্যে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. মো. ওবায়দুল কবির খানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদদু আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, এমকে আনোয়ার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, ঢাকা সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপি, বিএনপি-সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




