শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়একনেকে উঠছে রোহিঙ্গা শুমারি প্রকল্প

একনেকে উঠছে রোহিঙ্গা শুমারি প্রকল্প

কক্সবাজারে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। কিন্তু  অনিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যার কোনো হিসেব নেই। কারও মতে তিন লাখ, আবার কারও মতে চার লাখ। এবার এসব অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় পরিসংখ্যান ব্যুরো কাজটি করবে। এজন্য প্রায় ২২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ‘বাংলাদেশে অবস্থানরত অনিবন্ধিত মায়ানমারের নাগরিক শুমারি ২০১৫’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেকে) উপস্থাপন হতে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, রোহিঙ্গা শুমারি প্রকল্পে সরকারি খরচে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদকাল। কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও পটুয়াখালী জেলায় এই জরিপ চালানো হবে। ইতোমধ্যে জরিপ কাজের জন্য প্রশ্নপত্রও তৈরি হয়েছে। এতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের নেওয়া জাতীয় কৌশলপত্র বা ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক পেপারের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের শুমারি করা হবে। যেখানে বাংলাদেশে তাদের বর্তমান অবস্থান এবং বাংলাদেশের অনুপ্রবেশের আগে মায়ানমারে তাদের মূল বাসস্থানের ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হবে। তাদের ছবি ও যাবতীয় তথ্যসহ একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন জেলা কার্যালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার স্বমন্বয়ে রোহিঙ্গাদের সঠিক হিসেব এবং বর্তমান ঠিকানা বের করা হবে। এছাড়া মায়ানমারের শরণার্থীরা যেন স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে না পারেন, সে জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান এবং এ বিষয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রারদের কঠোর নির্দেশ দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সরকারি হিসেব অনুযায়ী যে সংখ্যক রোহিঙ্গার কথা বলা হয় তা সঠিক নয়। প্রতিদিনই অবৈধ অধিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা এখন শুধু কক্সবাজার এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছেন। কর্মসংস্থানের অভাবে এদের বেশিরভাগই মাদক, অস্ত্র চোরাচালান, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ গিয়েও তারা নানা অপকর্ম করছেন। যা সত্যি উদ্বেগের বিষয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি যৌক্তিক সমাধানের সময় এসেছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে, বলেন এই কর্মকর্তা।

এরই মধ্যে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী ও কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মায়ানমার। তবে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের জটিলতায় প্রক্রিয়াটি ২০১৬ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে। প্রথম পর্যায়ে কুতুপালং ও নোয়াপাড়া উদ্বাস্তু শিবির থেকে দুই হাজার ৪১৫ জনকে প্রত্যাবাসনের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে দেশটি। কক্সবাজারের শরণার্থী কার্যালয়ের (আরআরসি) তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে এখন তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা ১২ হাজার। কিন্তু  স্থানীয়দের হিসেবে, এদের সংখ্যা ৭০ থেকে ৯০ হাজার।  কুতুপালং থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা ১৮ হাজার। ওই শিবিরের কাছেই লেদা এলাকায় আছে অন্তত ২২ হাজার রোহিঙ্গা।

এছাড়া কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী, লারপাড়া, কলাতলী, আদর্শ গ্রাম, টিঅ্যান্ডটি পাহাড়, সার্কিট হাউস, সিটি কলেজ ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ছোট-বড় ১২টি পাহাড়ে ১৫ হাজারের বেশি ঘরে বসবাস করছেন প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা। এদিকে কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠ্যাঙ্গারচর এলাকায় নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এই বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বদর মুনির ফেরদৌস বলেন, বেশ কিছুদিন আগে এমন একটি প্রস্তাব আমাদের কাছে আসে। হাতিয়ায় সুবিধাজনক ও প্রশস্ত জায়গা পাওয়া যাবে কি-না তা জানতে চাওয়া হয়। সে অনুযায়ী হাতিয়ার ঠ্যাঙ্গার চরাঞ্চলের ৫০০ একর জায়গার প্রস্তাব আমরা পাঠিয়েছি। তবে বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন আছে বলে জনিয়েছে সরকারি সূত্র।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ