নগরীতে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের দেড়’শ মেট্রিকটন খেজুর ও কিসিমিস সহ একটি কোল্ডস্টোরেজ সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। রমজান মাসের চাহিদা বিবেচনায় রেখে একটি ব্যবসায়ি সিন্ডিকেট এসব মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর ও কিসমিস খুচরা বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগর গোয়েন্দা পুলিশ নগরীর কোতোয়ালি থানার রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাশে চৈতন্যগলিতে ওই কোল্ডস্টোরেজে অভিযান চালায়। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এস এম তানভির আরাফাত বলেন, প্রথমে আমরা চার হাজার কার্টন মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরের সন্ধান পেয়েছিলাম। পরে কোল্ডস্টোরেজে তল্লাশি চালিয়ে আরও খেজুর এবং কিসমিসের সন্ধান পাওয়া গেছে। মোট ১৫ হাজার কার্টন মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর ও কিসমিস আমরা জব্দ করেছি।
সূত্র জানায়, ইটিএসি নামে ওই কোল্ডস্টোরেজে রাখা ১৫ হাজার কার্টনের মধ্যে ১২ হাজার কার্টন খেজুর এবং তিন হাজার কার্টন কিসমিস। প্রতি কার্টনে ১০ কেজি করে কিসমিস অথবা খেজুর আছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম সেখানে যান। তিনি কোল্ডস্টোরেজটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন।
আশরাফুল আলম উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, রওনক জাহান নামে এক ব্যক্তি কোল্ড স্টোরেজের মালিক। তবে পণ্যের আমদানিকারক কে সে বিষয়ে তারা নিশ্চিতভাবে কিছুই জানতে পারেননি। তিনি জানান, কোল্ডস্টোরেজে তিন বছর আগের কিসমিস-খেজুরও পাওয়া গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণের তালিকের লেবেল পাল্টে ফেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘মালিককে ফোন করা হয়েছে। তবে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা আপাতত কোল্ডস্টোরেজ সিলগালা করার নির্দেশ দিয়েছি। মালিক এবং আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে খাবারে ভেজাল রোধের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানান নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এস এম তানভির আরাফাত। অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।




