ভারতের বৃহৎ শিল্প গ্রুপ রিলায়েন্স ও আদানী’র সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের এমওইউ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এমওইউ স্বাক্ষর করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব জহুরুল ইসলাম এবং স্ব- স্ব কোম্পানির পক্ষে আদানী পাওয়ার লিমিটেড’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ভিনেত এস জাইন এবং রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড’র ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বামী কে গুপ্তা। চুক্তি অনুযায়ী, রিলায়েন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ভিত্তিক ৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে। কোম্পানিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, স্টোরেজ ট্যাংক ও রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট স্থাপন করবে। এতে বাংলাদেশে তাদের সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ঠিক কোথায় স্থাপন হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয় নি। তবে প্রাথমিক বিবেচনায় রাখা হয়েছে মহেষখালীকে। খুব শিগগিরই দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে স্থান নির্বাচন করা হবে। আর প্রথম ধাপে আগামী ৩০ মাসের মধ্যে ১৫ শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আনতে চান বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছে রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড’র ভাইস চেয়ারম্যান সামির কে গুপ্তা।
অন্যদিকে, আদানী গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদানী পাওয়ার লিমিটেড মহেষখালীতে ১৬ শ’ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে। ভারতীয় বেসরকারি মালিকানাধীন সবচেয়ে বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠাটি বর্তমানে বাংলাদেশের মোট চাহিদার চেয়ে প্রায় দেড়গুণ (১১ হাজার মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। আদানী পাওয়ার লিমিটেড’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ভিনেত এস জাইন বলেন, আদানী গ্রুপ ২০২০ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর বাইরে সৌর বিদ্যুৎ থেকে আরও ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বলেন, আমরা আশা করছি দ্রুততম সময়ে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসুক। এ জন্য একটি যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা যেতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। যে কারণে অনেক খ্যাতনামা কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসছে। আদানী ও রিলায়েন্স গ্রুপের এই বিনিয়োগকে মাইলফলক বলেও এসময় মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই। শিল্পে সংযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখন যার প্রয়োজন গেলেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পেয়ে যাবেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলাম, জ্বালানি বিভাগের সচিব আবুবকর সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




