খাদ্য অপচয় করে বিলাসিতা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি সারাবিশ্বের সমর ব্যয় কমিয়ে তা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবহারের ওপরও তাগিদ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বে যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয় তা দিয়ে প্রতিটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু সেটা কেন হচ্ছে না? এটিই হলো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কেন মানুষ তাদের এ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত? তিন দিনব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়া খাদ্য অধিকার সম্মেলন-২০১৫’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ীতে কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউটে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আগামী দুই দিন ধরে এ সম্মেলন চলবে। খাদ্য অপচয়কে বিলাসিতার সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিলাসিতা আপনারা দেখাবেন ৫ তারকা হোটেলে, সেখানে এতো-এতো খাবার সাজিয়ে দেবে, যার সামান্য একটু ব্যবহার হয়। অধিকাংশই অপচয় হয়ে যায়। আমরাও অনেক সময় এতো বেশি খাবার তৈরি করি, পরে ফেলে দেই। ‘অথচ আমাদের সমাজে কত শিশু অভুক্ত থাকে। তাদের কথাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে’- যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে কত শিশু খাবারের জন্য আহাজারি করছে। খাবারের সন্ধানে দ্বারে-দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের একটি মানুষও কেন না খেয়ে থাকবে? কেন তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে? খাদ্য নিরাপত্তার বাইরে থাকা মানুষের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসেব অনুযায়ী ৭.৩ বিলিয়ন মানুষের এ বিশ্বে এখনও প্রায় ৮০৫ মিলিয়ন মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে। অর্থাৎ প্রতি নয় জনে একজন অপুষ্টিতে রয়েছেন। আবার এর মধ্যে ৭৯১ মিলিয়ন মানুষের বাস উন্নয়নশীল দেশে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২৭৬.৪ মিলিয়ন মানুষ এ দলভুক্ত।
‘খাদ্য নিরাপত্তা শুধু খাদ্য উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না। আমাদের এ বিশ্বে যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদিত হয়, তা সব মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার পান না’ -বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সমর ব্যয় কমিয়ে তা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা দূর করতে বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। ২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী এ ব্যয় মার্কিন সামরিক বাহিনীর মাত্র ৮ দিনের ব্যয়। ২০১২ সালে সারাবিশ্বে সামরিক খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন ডলার। যা বিশ্বের মোট জিডিপি’র ২ দশমিক ৫ শতাংশ। মাথাপিছু ব্যয় হয়েছে ২৪৯ ডলার। দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলের জন্য ‘সার্ক ফুড ব্যাংক’ ও ‘সার্ক বীজ ব্যাংক’ গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। ‘সারাবিশ্বে সমর সজ্জার পেছনে এখন যে ব্যয় হয় তার একটু সামান্য অংশ যদি এ দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে ব্যয় হতো এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ব্যয় হতো তাহলে এ বিশ্বে দারিদ্র্য থাকতো না, খাদ্য সমস্যাও থাকতো না’- মত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, নেপালের ন্যাশনাল নেটওর্য়াক অন রাইট ফুডের জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক সর্ব রাজ খড়কা, অ্যান্টি প্রোভার্টি প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক মহসিন আলী প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলনে যোগদানের জন্য কৈলাশ সত্যার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিশুদের শ্রম-দাসত্ব থেকে মুক্ত করার এক সুদীর্ঘ লড়াই পরিচালনা করে তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন।




