সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদরাজনীতিখালেদার বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ

খালেদার বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া শেষ করেছেন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। তাকে জেরা করতে সময়ের আবেদন জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আদালতে এখন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নেওয়া বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদের সাক্ষ্য বাতিলে খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর শুনানি চলছে। শুনানি করছেন খালেদার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খালেদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওই দুই দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে।  সোমবার বেলা সোয়া এগারটা পর্যন্ত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হারুন-অর-রশিদের অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গত ৫ মে আংশিক সাক্ষ্য দেন তিনি। এরপর এ সাক্ষীকে জেরার জন্য আদালত আহবান জানালেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরার জন্য প্রস্তুত নন বলে উল্লেখ করে তা পেছাতে সময়ের আবেদন জানিয়েছেন।

অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও বাদী ও প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন হারুন-অর-রশিদ। গত ৫ মে দুই আসামির পক্ষে তাকে জেরা শেষ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। সোমবার তাকে অন্য আসামিদের পক্ষে অসমাপ্ত জেরারও দিন ধার্য রয়েছে। তবে দশটা ৩৫ মিনিটে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নেওয়া হারুন-অর-রশিদের ওই সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন খালেদার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার। এ সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির হননি খালেদা। তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে দেওয়া প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ আইনানুগ হয়নি বলে উল্লেখ করে এ আবেদন জানানো হয়। আদালতে বেলা সোয়া এগারটা থেকে এ আবেদনের সপক্ষে শুনানি করছেন খালেদার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এর আগে সকাল দশটা ৫২ মিনিটে দুই মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছান খালেদা। সকাল নয়টা ৫৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হন তিনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাত সাক্ষীর অন্য ছয়জন হচ্ছেন- সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার হারুনুর রশিদ, অফিসার (ক্যাশ) শফিউদ্দিন মিয়া, আবুল খায়ের, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দা নাজমা পারভীন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আফজাল হোসেন। এসব সাক্ষীরাও আদালতে আছেন এবং হারুন-অর-রশিদের দুই মামলারই সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হলে এ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি মোট ছয়জন। খালেদা ছাড়া অন্য পাঁচজন হচ্ছেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক, বাকিরা জামিনে আছেন।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে আছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ