শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়নিরাপত্তারক্ষীকে জবাই করে নগরীতে ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা

নিরাপত্তারক্ষীকে জবাই করে নগরীতে ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা

নিরাপত্তারক্ষীকে জবাই করে নগরীতে একটি বেসরকারি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার গভীর রাত আড়াইটার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর এলাকায় ইসলাম টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের শাখায় এ ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। খুন হওয়া নিরাপত্তারক্ষীর নাম মো.ইব্রাহিম (৩৪)। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার আলী আহমদের ছেলে। হত্যাকাণ্ড ও ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার, উপ কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ, অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গোয়েন্দা) এস এম তানভির আরাফাত। পুলিশ ও ডিবি’র একাধিক টিম ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংকের ভেতরে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন।

নগর পুলিশের উপ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ জানান, ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ব্যাংকের পেছনের দিকের জানালার গ্রিল কেটে তিনজন দুর্বৃত্ত ভেতরে প্রবেশ করেন। গায়ের শার্ট খুলে সেগুলোকে তারা মুখোশ হিসেবে ব্যবহার করে। ঢুকেই তারা প্রথমে নিরাপত্তারক্ষী ইব্রাহিমের মাথায় আঘাত করে। মাথায় আঘাতে পেয়ে ইব্রাহিম লুটিয়ে পড়লে তাকে গলায় কোপ দেয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে দুর্বৃত্তরা।

পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘জবাই করার সময় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র যেমন দা, বটি ও ছোরা ব্যবহার করেছেন। মারাত্মক কোন অস্ত্র তাদের কাছে দেখা যায়নি। ইব্রাহিমকে খুনের পর তারা প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট বটি দিয়ে ভল্টের তালা ভাঙার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তারা আবারও জানালা দিয়ে নিচে নেমে যায়। ব্যাংকের ম্যানেজার ছালামতউল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার অফিস সময় শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা সবাই চলে যান। নিরাপত্তারক্ষী ইব্রাহিম শুধুমাত্র ব্যাংকের ভেতরে দায়িত্বে ছিলেন। শুক্রবার সকাল থেকে ইব্রাহিমের স্ত্রী কয়েক দফা তাকে ফোন করেন। কিন্তু মোবাইল বন্ধ পান। এরপর অফিসের ল্যান্ডফোনেও কয়েক দফা ফোন করেন তিনি। কিন্তু কেউ ফোন ধরেননি। এরপর ইব্রাহিমের স্ত্রী ম্যানেজারকে ফোন করে বিষয়টি জানান।

ম্যানেজার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খোরশেদ নামে আরেকজন নিরাপত্তারক্ষীকে ব্যাংকে পাঠান। খোরশেদ এসে দরজার গ্রিলের ভেতর ‌আয়নার ফাঁক দিয়ে দেখেন, ইব্রাহিম রক্তাক্ত অবস্থায় ব্যাংকের ক্যাশ শাখার সামনে মেঝেতে পড়ে আছে। তার শরীরের উপর লুঙ্গি এবং কাথা মোড়ানো। খোরশেদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে ম্যানেজার ছালামতউল্ল‍াহ ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ইব্রাহিমের শরীরের আশপাশে মেঝেতে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি বটি ও একটি ছোরা উদ্ধার করেছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এস এম তানভির আরাফাত বলেন, ‘ভল্ট ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল। তবে ভাঙতে পারেনি। আপাতত আমরা এটিকে ডাকাতির চেষ্টা বলে মনে করছি।’

উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘ডাকাতি কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। ডাকাতির জন্য যদি তারা আসত তাহলে ভল্ট ভাঙার গ্যাস কাটার নিয়ে আসত। শুধুমাত্র দা, বটি, ছুরি নিয়ে তো কেউ ডাকাতি করতে আসেনা। আবার তারা ভল্ট ছাড়া অন্য কোন কক্ষেও ঢুকেনি।’ ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ শাহেদ হোসেন জানান, ইব্রাহিম ছিল ব্যাংকের স্থায়ী কর্মচারি। ১৯৯৮ সালে তিনি ব্যাংকে যোগ দেন। গত বছর তিনি আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের মুরাদপুর শাখায় বদলি হয়ে আসেন। ঘটনা শুনে ইব্রাহিমের দুলাভাই আব্দুর রহিম কাঁদতে কাঁদতে ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বলেন, বাড়িতে ইব্রাহিমের মা, স্ত্রী আছে। তার দুই বছরের একটা ছেলে আছে। আমি তাদের কি জবাব দেব। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ