হাজার হাজার নেতা-কর্মী আর নগরবাসীর ভালবাসায় সিক্ত হলেন চট্টগ্রামের নতুন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নতুন নগর পিতাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নগরবাসী। উপস্থিত হাজার হাজার জনতার ভালবাসার জবাবে নাছির উদ্দিন বলেন, আপনাদের অন্তরের ভালাবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর শনিবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন নব নির্বাচিত মেয়র। মেয়রের আগমন উপলক্ষে সেখানে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে নাগরিক কমিটি। বিমান বন্দরের উত্তর পাশে ভিআইপি গেইটের সামনে ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চে আসেন বিকেল সাড়ে ৪টায়। পাঁচ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করায় সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আ জ ম নাছির উদ্দিন। বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় নগরীর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন নতুন মেয়র।
মেয়রের আগমন উপলক্ষে বিকেল তিনটা থেকেই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন। মেয়র মঞ্চে আসার আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো বিমানবন্দর এলাকা। তিন শতাধিক ট্রাক, বাস, মাইক্রো ও পাঁচ শতাধিক মোটর সাইকেলে করে নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। এছাড়া নব নির্বাচিত কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলররা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতে চট্টগ্রামবাসীকে সালাম জানিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ধন্যবাদ জানিয়ে আপনাদের ছোট করবো না। আপনাদের ভালবাসায় আমি কৃতজ্ঞ। নির্বাচনের আগে দেওয়া ওয়াদা পূরণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, নগরবাসী আমাকে যে প্রত্যাশা থেকে মেয়র নির্বাচিত করেছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আপনাদের অর্পিত দায়িত্ব আমি শতভাগ সৎ, ন্যায় ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করবো।
বিকেল পাঁচটায় বিমানবন্দর থেকে ট্রাকে করে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় সড়কের উভয় পাশ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নেতা-কর্মীরা। বিমানবন্দর সড়ক থেকে বের হয়ে নেভাল সড়ক হয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, কাঠগড়, স্টিলমিল হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠে পৌঁছেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা প্রবীন রাজনীতিবিদ ইছহাক মিয়া।
বিকেলে সাড়ে তিনটার দিকে সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম, নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখান সাইমুল চৌধুরী। বিকেল চারটায় ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করেন সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, শামসুল হক চৌধুরী ও দিদারুল আলম। তিন সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন নতুন মেয়রকে সঙ্গে নিয়ে বিকেলে সাড়ে ৪টায় মঞ্চে উঠেন। এসময় হাজার হাজার নেতা-কর্মী শ্লোগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। উত্তরে নতুন মেয়রও হাত নেড়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, শামসুল হক চৌধুরী, দিদারুল আলম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল,প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, রাউজানের সাবেক পৌর মেয়র দেবাশীষ পালিত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




