সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদখেলার সময়এক ম্যাচ হাতে রেখেই টাইগারদের সিরিজ জয়

এক ম্যাচ হাতে রেখেই টাইগারদের সিরিজ জয়

দুই মাসের ব্যবধানে একটি দল কতটা বদলাতে পারেÑ বলতে পারেন ২০ শতাংশ, ৫০ শতাংশ। এর বেশি পরিবর্তন কী সম্ভব। হ্যাঁ সম্ভব। ১০০ শতাংশই বদলে যাওয়া সম্ভব। প্রমাণ চান। কাল মিরপুরে টাইগাররা যা করল তার চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী। ১৬ বছর হারতে হারতে যে দল দুমাস আগেও জেতার কথা বলতে সাহস পেত না তারা বলেকয়ে সিরিজ জিতল। আর জয়টা এমন দোর্দ-প্রতাপের যে এখন হোয়াইটওয়াশ করার কথা অবলীলায় ভাবছে মাশরাফিবাহিনী। প্রথম ম্যাচে ৭৯ রানের পর গতকাল ৭১ বল অব্যবহৃত রেখে ৭ উইকেটে জয় টাইগারদের আধিপত্যের কথা জানান দিচ্ছে। ক্রিকেটবিশ্বে টাইগারদের উত্থানপর্ব তবে শুরু হলো।   অবশেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজও জিতল বাংলাদেশ। ১৬ বছর পর গত শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানকে হারানো গিয়েছিল। তারপর থেকেই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন মাশরাফিবাহিনী। গতকাল সেই স্বপ্নটা সত্যি হয়েছে। প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
এ ম্যাচের গল্পটা অনেকটা আগের ম্যাচের মতো। তামিম-মুশফিকের যুগলবন্দিতে সহজ জয়। দ্বিতীয় ওয়ানডে ও সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ২৪০ রানের লক্ষ্য বেঁধে দেয় পাকিস্তান। ৭১ বল বাকি থাকতেই সেই লক্ষ্যটা অনায়াসে টপকে গেছে বাংলাদেশ। তামিমের সেঞ্চুরি হাঁকানোর ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়টি এসেছিল নর্দাম্পটনে ১৯৯৯ সালে। ১৬ বছর পর গত শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় জয়। সেই একই ভেন্যুতে গতকাল তৃতীয় জয়টি তুলে নেওয়ার পাশাপাশি সিরিজও জিতে নিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সিরিজ জয়-নিশ্চিত হওয়ার ম্যাচের মূল নায়ক তামিম ইকবাল। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন দেশের ড্যাশিং এই ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-মাহমুদউল্লাহর ৭৮ এবং তৃতীয় উইকেটে তামিম-মুশফিকের ১১৮ রানই টাইগারদের দাপুটে জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তামিমকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের ব্যাট থেকে অসে ৭০ বলে ৬৫ (৬টি চার ১টি ছয়) রান। মুশফিককে আউট করা গেলেও তামিম অপরাজিত থেকে খেলা শেষ করেন।  তামিমের ১১৬ বলে ১১৬* রানের ঝকঝকে ইনিংসে ছিল ১৭টি চার ও ৬টি ছক্কার মার।
এর আগে, স্পোর্টিং উইকেটের ফায়দা তুলে নিতে টস জিতে ব্যাট নিতে দুবার ভাবতে হয়নি পাকিস্তানি অধিনায়ক আজহার আলীকে। কিন্তু পাকিস্তানি অধিনায়ক সেই ফায়দা তুলতে পারলেন কই? দলীয় ৩৫ রানে ওপেনার সরফরাজ আহমেদের উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দিলেন পেসার রুবেল হোসেন। শুরুতেই উইকেটের পতনে বেশ বড়সড় একটা ধাক্কাও খায় সফরকারীরা। রুবেল হোসেনের দেওয়া পেস-ধাক্কাটা সামলে ওঠার আগেই পাকিস্তানি ব্যাটিংয়ের মেরুদ- মুড়ে দিলেন তিন স্পিনার আরাফাত সানী-সাকিব আল হাসান-নাসির হোসেন। নিজেদের স্পিন বিষে এ তিনজন নীল করে ফেলেন হাফিজ, আজহার, ফাওয়াদ এবং রিজওয়ানকে। ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ডুবতে থাকা পাকিস্তানি দলকে টেনে তোলার চেষ্টাটা বেশ দক্ষ হাতেই করেছেন হ্যারিস সোহেল, সাদ নাসিম এবং ওয়াহাব রিয়াজ। ষষ্ঠ উইকেটে সোহেল-নাসিমের ৭৭ রানের পর সপ্তম উইকেটে রিয়াজ-নাসিমের ৮৫* রানে ভর করে পাকিস্তানও পায় ৬ উইকেটে ২৩৯ রানের সম্মানজনক স্কোর। হ্যারিস সোহেলকে ৪৪ রানে ফেরানো গেলেও সাদ নাসিম (৭৭) এবং ওয়াহাব রিয়াজকে (৫১) আউট করা যায়নি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট পান সাকিব আল হাসান। এছাড়া মাশরাফি, সানী, রুবেল এবং নাসির প্রত্যেকেই পেয়েছেন ১টি করে উইকেট। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। সম্ভাবনাটা সেই কারণেই জ্বলজ্বল করছে! তবে কি পাকিস্তানকেও বাংলাওয়াশ ‘উপহার’ দেবে বাংলার বাঘরা।
  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ