আজকের ভোর এসেছে হতাশা আর কান্না নিয়ে। রাজধানীর রামপুরায় হাজীপাড়া বউবাজার এলাকার ঝিলপাড়ে এখন চলছে শোকের মাতম। নিহত আর নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি এখানকার আকাশ-বাতাস। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে টিনশেড দোতলা বাড়িটি পানির নিচে দেবে যায়। এর পরপরই উদ্ধার আসে ফায়ার সার্ভিস। রাত ১১টা পর্যন্ত ১২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে টানা উদ্ধার অভিযান চললেও বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আরে কোনো মৃতদেহ বা নিখোঁজকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা একটানা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর ফজরের নামাজের পর থেকে এখানে ভিড় করতে শুরু করেন আশপাশের এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষের বাস ছিল এখানে। ভাড়া কম হওয়ার কারণে এক কক্ষে ৮/১০ জনের মতো মানুষ থাকতো এখানে। আবার এক কক্ষে দুই পরিবারও থাকতো। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এখানে সাধারানণত গার্মেন্টস কর্মী, বাসা বাড়িতে কাজ করেন এমন মহিলা, রিকশা চালক, দিনমজুর, ছোট মুদি দোকানি, আখের রস বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতারা বাস করতেন। খুব সকালেই এখানকার বাসিন্দারা নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য তৈরি হতো।
তিনি বলেন, দেবে যাওয়া বাড়িটির প্রথম এবং দ্বিতীয় তলা মিলে ২০ কক্ষে প্রায় দেড় শতাধিক লোকের বাস ছিল। এদিকে, স্বজন হারানো ও নিখোঁজ হওয়া পরিবারের সদস্যরা সারারাত ঝিলপাড়ের দুই পাশে ভিড় করে ছিলেন। তাদের দাবি এখনো অন্তত ১৫/২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রামপুরা থানার অপারেশন অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা নারী ও শিশুসহ ১২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। নিখোঁজ রয়েছে এমন আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, আমরা মৃতদেহের সন্ধানে তল্লাশি করে যাচ্ছি।




