যে সব প্রার্থী নির্দেশনা থাকার পরও নির্বাচনী মিছিল করবেন তাদের প্রার্থিতা বাতিল করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের আরও কঠোর হতে বলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মিছিল করে কোনো প্রার্থী যেন প্রচারণা না চালায়, এজন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কাজেই এরপরও কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তি মিছিল করে প্রচারণা চালালে তার বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থীর প্রর্থিতা বাতিল করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় মাইকের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিধি অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মাইকে প্রচারণা চালানোর বিধান আছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ওয়ার্ডে প্রচারণার জন্য একটি ও পথসভায় আরও একটি মাইক ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। কোনো প্রার্থী একাধিক মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালালে অথবা সময়ের আগে মাইকে প্রচারণা শুরু করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মিছিল নিষিদ্ধ করেছে ইসি। নিষিদ্ধ করেছে জনসভাও। তবে গণসংযোগকালে কেবল একটি মাইক নিয়ে পথসভা করা যাবে।
এদিকে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, মেয়র প্রার্থী প্রতি থানায় একের অধিক ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। কাউন্সিলর প্রার্থীরা ৩০ হাজার ভোটারের জন্য একটি ক্যাম্প, তবে সর্বোচ্চ তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ক্যাম্প অফিসে টেলিভিশন-ভিসিআর-ভিসিডি ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন না।
নির্বাচনী আচরণ বিধির ৬(১) উপবিধি অনুযায়ী, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি পথসভা ও ঘরোয়া সভা ছাড়া কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। এছাড়া মিছিল কিংবা মশাল মিছিল বা কোনো রূপ শোভাযাত্রা করা যাবে না। ইসির জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শোভাযাত্রাকেই মিছিল হিসেবে গণ্য করা হয়।
আচরণ বিধির ১৩’র ক ও খ উপবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী একটি ওয়ার্ডে একই সঙ্গে পথসভার জন্য একটি এবং নির্বাচনী প্রচারণার জন্য একের অধিক মাইক্রোফোন বা শব্দের মাত্রা বৃদ্ধি করে এমন যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে মাইক্রোফেন বা শব্দের মাত্রা বর্ধণকারী যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমান বা ছয়মাসের কারদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতীকের বিষয়ে শাহ নেওয়াজ বলেন, নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক এবারই প্রথম সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট কোনো প্রতীক ছিল না। এসব প্রতীক নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে কমিশন তা আমলে নেবে। তিনি বলেন, নারী প্রার্থীদের অপমান করার জন্য প্রতীক নির্ধারণ করা হয়নি। বরং তাদের সুবিধার কথা ভেবে কমিশন জামানতের পরিমাণ আগের চেয়ে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করেছে। এছাড়া তারা আগে কোনো গাড়ি ব্যবহার করতে পারতেন না। এখন গাড়ি ব্যবহার করে প্রচারণার সুযোগও তাদের জন্য রাখা হয়েছে।




