গরমকালে স্যুট-টাই পরা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কার ও উপহাসের পর স্যুট-টাই ছাড়া একনেক বৈঠকে অংশ নিলেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। মার্চ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত অফিসে স্যুট-টাই না পরার নির্দেশনা থাকলেও সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে যেসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী স্যুট-টাই পরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাদের কড়া সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, গরমে স্যুট-টাই পরে এসেছেন কেন, এটা কি আমাদের ড্রেস? এগুলো তো বৃটিশদের ড্রেস। বৃটিশদের গোলামি করেছেন, তার অভ্যাস এখনও যায়নি? এর একদিন পরেই পাল্টে গেলো চিত্র! মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) একনেক সভায় কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের স্যুট-টাই পরে সভায় আসতে দেখা যায়নি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী স্যুট পরতে পছন্দ করেন। কিন্তু এদিন সাধারণ পোশাকেই একনেক সভায় অংশ নেন তারা। সংবাদমাধ্যমে বৈঠক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরই প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন বিষয়টি।
তবে মার্চ থেকে নভেম্বরের এই নিয়ম ওবায়দুল কাদের নিজেই ভঙ্গ করেন গত ১০ মাচর্। ওই দিন সর্বোচ্চ সংখ্যক মন্ত্রীর পরনে স্যুট দেখা যায়। এর মধ্যে ছিলেন শিল্পমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গৃহায়নমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীসহ কয়েকজনকে। ২৪ মার্চের একনেক বৈঠকে অবশ্য এই সংখ্যা কমে আসে এই দিন সিনিয়র মন্ত্রীদের মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীকে স্যুট পরা দেখা যায়। আর ৩১ মার্চের একনেক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী স্যুট পরে প্রধানমন্ত্রীর পাশেই বসেছিলেন। এর আগের দিন ৩০ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বাণিজ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে স্যুটেড-ব্যুটেড দেখা যায়।




