ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্রগ্রাম এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। এই প্রস্তুতি প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করতে গত কয়েক দিন ধরে দলের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। প্রস্তুতি প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করে আগামী ৯ এপ্রিলের পর দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণ করবে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে ক্ষমতাসীন এ দলটি। এ জন্য প্রথমেই একক প্রার্থী নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে। মেয়র পদে অনেক আগেই দল সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ঢাকা উত্তরে আনিসুল হক ও দক্ষিণে সাঈদ খোকন এবং চট্রগ্রামে আ জ ম নাছির উদ্দিন। ঢাকা দক্ষিণে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র কিনলেও তাকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণে ৫/৬ জন করে প্রার্থী রয়েছে। এদের ভেতর থেকে একজন করে সমর্থন দিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে বলে দলের নেতারা জানান। আওয়ামী লীগের একাধিক সুত্র জানায়, ইতোমধ্যেই দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী তালিকা প্রায় চুড়ান্ত। দল সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণার পর বাকীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন। দলে যারা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন, তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার ফর্মে স্বাক্ষর করে জমা নেয়া হচ্ছে। যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করবে তাদের দল থেকে বহিস্কারের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে ২০১৩ সালে খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, ররিশাল ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত হয় আওয়ামী লীগ । বিশেষ করে ৫ সিটি করপোরেশনেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পরাজয়ে মারাত্বক বিব্রতকর পরিস্থিতি পড়তে হয় দলটিকে। এই নির্বাচনে পরাজয়ে সরকার ও দলের প্রতি জন সমর্থন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় আওয়ামী লীগকে। আর এ কারণেই এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জের নির্বাচন বলে দলের নেতারা মনে করছেন।
আর ওই ৫ সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের বিষয়টিকে চিন্তায় রেখেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বশক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণায় নামছে বলে দলের একাধিক নেতা জানান। এদিকে আওয়ামী লীগের প্রাধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপি নির্বাচনে নেমেছে।
আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিগত সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনে সহিংসতার চিত্র তুলে ধরবে। বিশেষ করে গত তিন মাস টানা অবরোধ-হরতালের সময় বিএনপি-জামায়াত জোট যে সহিংসতা চালিয়েছে সেটাকে আওয়ামী লীগ জোরালোভাবে প্রচারে আনবে। নির্বাচনী প্র¯‘তি হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।




