তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা জানেন এক স্থান থেকে অন্য স্থান বিচ্ছিন্ন করতে কী কী প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঘর থেকে বের হতে না দেওয়ার আহবান জানিয়ে নেতাকর্মীদের তারেক বলেন, আমরা তাদের মত একটির বদলে ১০টি লাশ বা ঘর থেকে ধরে এনে হত্যার কথা বলবো না, তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যেন ঘর থেকে বের হতে না পারে, সেজন্য স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এদের অবরুদ্ধ করে রাখতে হবে।
শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতনকারী আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, নেতাকর্মীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেতাকর্মীদের তারেক বলেন, এই বিচার আদায়ে শেখ হাসিনার বিদায় ঘণ্টা বাজানোই এখন মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জন করতেই হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের উদ্দেশ্যে তারেক বলেন, একটি অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে আপনারা কার বুকে গুলি চালাচ্ছেন, কাকে নির্যাতন করছেন, একটু ভাবুন।
নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে তারেক বলেন, গণতন্ত্র উদ্ধারে বিএনপির অতীত ইতিহাসগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার এই ২০১৫ সালে শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে আরেকটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে হবে আমাদের, আর এই ইতিহাস সৃষ্টি করতে হলে রাজপথ ছাড়লে হবে না। নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তারেক বলেন, মনে রাখবেন এবারের আন্দোলন ব্যর্থ হলে শুধু বিএনপি নয়, দেশও বাঁচবে না।
অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনে উপবিষ্ট তার ভাষায় ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারেক প্রশ্ন রাখেন, আমি আওয়ামী লীগ সমর্থক সাংবাদিক যারা আছেন শুধু তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা কি আপনাদের সহকর্মী সাগর-রুমি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছিলেন এই সরকারের কাছে? বিচার চেয়েছিলেন? এই অবৈধ শেখ হাসিনাকে এত ভয় করেন আপনারা- যে নিজের সহকর্মীদের হত্যারও বিচার চাইতে পারেন না। আপনারা নিজের কাছেই প্রশ্ন করুন সাংবাদিকতার মহান পেশার প্রতি আপনাদের যে দায়বদ্ধতা সেটি আপনার কতটুকু পালন করতে পারছেন।
নিজের দেশের, দেশের মানুষের স্বার্থে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, পুরোপুরি নিরপেক্ষ খবর হয়তো আপনারা দিতে পারবেন না, অন্তত কিছুটা হলেও বস্তুনিষ্ট ও সত্য খবর পরিবেশন করুন, এটিই আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান।
এর আগে, তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সভায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কায়সার এম আহমেদের পরিচালনায় সভায় অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম এ মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী ও তৈমুছ আলী প্রমুখ।




