সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয় যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে খালেদা জিয়া মরিয়া হয়ে উঠেছেন : প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে খালেদা জিয়া মরিয়া হয়ে উঠেছেন : প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দালালরা ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য জনগণকে সর্তক থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে খালেদা জিয়া মরিয়া হয়ে উঠেছেন। পাকিস্তানিদের দালালরা আর যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে। ক্ষমতায় এসে জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চান, এজন্যই তার আন্দোলন। তবে তার এ আন্দোলনে দেশের জনগণ সাড়া দেবে না। আমাদের পতাকা শহীদের রক্তে ভেজা পতাকা। এ পতাকা নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না, শকুনদের আর এ পতাকা খামচে ধরতে দিবো না। প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে এ পতাকাকে রক্ষা করবো, এটাই আজকের দিনের শপথ। ১৪ ডিসেম্বর রোববার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির চেয়ারপাসর্ন খালেদা জিয়া আজ যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। জনসভা করে তাদের মুক্তির দাবি করেন। তিনি বলেছেন, তারাই নাকি মুক্তিযুদ্ধ করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে তিনি বেছে নিয়েছেন বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে। যারা গণহত্যা চালিয়েছিলো তাদের নিয়ে তিনি জনসভা করছেন।

খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলে তিনি এ বিজয়ের মাসে ১৩ ডিসেম্বরে যুদ্ধাপরাধী, আলবদর রাজাকারদের নিয়ে কিভাবে জনসভা করেন, বক্তব্য দেন? তার জনসভায় কারা ছিলো? কাদের নিয়ে তিনি জনসভা করেছেন? বিএনপিতে যারা মুক্তিযোদ্ধা আছেন, তারা এখনো বিএনপিতে থাকেন কিভাবে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় হচ্ছে, রায় কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি আজ যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চায়, বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করার পর তার আত্মস্বীকৃত খুনিদের জিয়াউর রহমান পুরস্কৃত করেছিলেন। রাজাকার শাহ আজীজ, মওলানা মান্নান, আব্দুল আলীমকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধী যারা ভোটের অধিকার হারিয়েছিলেন, সংবিধান সংশোধন করে জিয়াউর রহমান তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেন। যুদ্ধাপরাধী যাদের বিচার চলছিলো, তাদের জেল থেকে ছেড়ে দেন। তাদের রাজনীতি করার অধিকার দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন খালেদা জিয়া। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন সেই রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর প্রধান নিজামী, মুজাহিদকে খালেদা জিয়া মন্ত্রী বানান। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কর্নেল রশিদ ও হুদাকে সংসদে বসান। খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদ দেওয়া ছিলো তার একমাত্র কাজ।

বিএনপি আমলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে আমাদের সকল উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়। মানুষ কিছু পাক, তিনি তা চান না। তার একটাই লক্ষ্য ছিলো, বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানো। জঙ্গীবাদকে মদদ দেওয়া ছিলো তার কাজ। একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সেভাবে খুনের রাজত্ম তৈরি করে। বিএনপি-জামায়াত যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই তারা জনগণের রক্ত নিয়ে খেলা করে।

বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে খালেদা জিয়া জড়িত ছিলেন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার এক মাস পরই বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এদিন তিনি সকালেই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। তার আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়ার দেড় ঘণ্টার মধ্যে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। সেদিন তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে তার প্রটোকল না নিয়ে কোথায় গিয়েছিলেন? ওইদিন সকল রাজনৈতিক দল এক হয়ে সেখানে ছুটে গিয়েছিলো, কিভাবে বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। আর তিনি আন্ডারগ্রাউন্ডে গেলেন কেন?

শেখ হাসিনা বলেন, ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেই তো। তিনি ভেবেছিলেন কিছু একটা হবে। তারপর তিনি আসবেন। তিনি যদি জড়িত নাই থাকবেন তাহলে আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকলেন কেন? ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে থাকলেন না কেন? আমিতো পরদিনই ক্যান্টনমেন্টে যাই। সেখানে সেনা অফিসারদের কথা শুনি।

বিডিআর বিদ্রোহের বিচারে খালেদা জিয়ার সহযোগিতা না করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিচার শুরু করি। তিনি বিচারে সহযোগিতা করলেন না। বরং আসামিদের বাঁচাতে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করেন। তার দলের নামি-দামি আইনজীবীরা আসামিদের রক্ষা করতে তাদের পক্ষে দাঁড়ান। কারা তাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, সে তালিকা আমার কাছে আছে। বিডিআর বিদ্রোহে বিএনপি ও খালেদা জিয়া জড়িত না থাকলে বিএনপির আইনজীবীরা কেন আসামিদের পক্ষে ছিলেন?

একাত্তরের গণহত্যাকারীদের পক্ষে বিএনপি, পঁচাত্তরের হত্যাকারীদের পক্ষে বিএনপি, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা অফিসার হত্যাকারীদের পক্ষে বিএনপি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায়ও বিএনপি-জামায়াত জড়িত ছিলো-  যোগ করেন তিনি। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রমুখ।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ