বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদরাজনীতিস্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতের বিচার না হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অসম্পূর্ণ থাকবে

স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতের বিচার না হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অসম্পূর্ণ থাকবে

স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতের বিচার না হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অসম্পূর্ণ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। সবচেয়ে বড় যুদ্ধাপরাধী জামায়াত। সেই জামায়াতের বিচার যদি না হয়, তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অসম্পূর্ণ থাকবে।  ১৪ ডিসেম্বর রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ আলোচনা সভায় শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর কন্যা নুজহাত চৌধুরী জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জানান।

সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে হত্যাযজ্ঞ চালানো ছিলো জামায়াতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার আলবদররা একটি রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছিলো। তাই জামায়াতের অপরাধের বিচারও হতে হবে। খালেদা জিয়ার নারায়ণগঞ্জের জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সুরঞ্জিত বলেন, এ জনসভায় খালেদা জিয়া যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে তিনটি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন।

খালেদা জিয়ার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে সজীব ওয়াজেদ জয় নাকি এক লাখ ডলার বেতন নেন। জয় প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা। আমরা এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করলাম। তিনি তার বক্তব্য প্রমাণ করুন, না হলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্য প্রসঙ্গ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা যুদ্ধ করিনি। আপনি কি করেছেন? আপনি তো ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন।

আরেক উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যার পর ক্যান্টনমেন্টে বসে জানজুয়া ও সেনা কর্মকর্তারা যে অট্টহাসি হেসেছিলেন, খালেদা জিয়া সে অট্টহাসি উপভোগ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে কোথাও যাননি, যুদ্ধ করেননি মন্তব্য করে আমু বলেন, তিনি কোথায় যুদ্ধ করেছেন তা জানতে চাই।

সভায় শহীদ পরিবারের সন্তান শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের ছেলে তৌহিদ রেজা নূর ও শহীদ ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেই সময়ের হৃদয়বিদারক নির্মম ঘটনাগুলো তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত নেতাকর্মীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তারা।

শহীদ পরিবারের সন্তানরা বলেন, যে চেতনাকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো, মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা ধারণ করার কারণে বুদ্ধিজীবীসহ ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। তাদের সেই চেতনা রক্ষা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় একমাত্র ভরসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে তার স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি। বঙ্গবন্ধু আমার মায়ের মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, তিনি নিজের হাতে বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের বিচার করবেন। কিন্তু ঘাতকরা তাকে তা করতে দেয়নি। অসীম সাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন। শেখের বেটি শেখ হাসিনার ওপর আমাদের আস্থার অভাব নেই। তিনিই আজ আমাদের বাংলাদেশ। জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করুন। যারা জামায়াত করবে বা তাদের মৌনভাবেও সমর্থন করবে তাদের আমরা নির্মূল করবো।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য সকল শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তৌহিদ রেজা নূর বলেন,  সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করায় শহীদ পরিবারের সন্তানদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ