তিনি আরও বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, কে-এইট ডব্লিউ(K-8W)একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল ককপিট বিশিষ্ট Jet Trainer বিমান। বিশ্বের বিভিন্ন পরাশক্তি তাদের যুদ্ধ বৈমানিক প্রশিক্ষণে এটি ব্যবহার করেন। এই বিমানের অন্তর্ভুক্তি যুদ্ধ বৈমানিক প্রশিক্ষণে আমাদের সক্ষমতাকে বিশ্বমানে নিয়ে যাবে এবং একইসাথে প্রশিক্ষণকে করবে আরও নিরাপদ এবং দ্রুততর।
বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমির বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমাদের সমুদ্রসীমার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের আকাশসীমা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করার জন্য কক্সবাজারে একটি নতুন এয়ার ডিফেন্স র্যাডার স্থাপন করা হচ্ছে। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল আধুনিক, শক্তিশালী ও পেশাদার বিমান বাহিনী গঠনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে ১৯৭৩ সালেই সে সময়ের অত্যাধুনিক MiG-21 সুপারসনিক ফাইটার বিমানসহ পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স র্যাডার ইত্যাদি বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়। পরবর্তীকালে ২০০০ সালে আমরা বিমান বাহিনীতে ৪র্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক MiG-29 যুদ্ধবিমান, সুপরিসর C-130 পরিবহন বিমান এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা র্যাডার সংযোজন করি।
২০০৯-২০১৩ মেয়াদে আমরা বিমান বাহিনীকে শক্তিশালী, দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হাতে নেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য বিমান বাহিনীতে প্রথমবারের মত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র SAM FM 90 (স্যাম এফ এম নাইনটি) সংযোজন করা হয়েছে।
এছাড়াও ২০১২ সালে বিমান বাহিনীর ফাইটার বহরে সংযুক্ত হয়েছে F-7 সিরিজের সর্বাধুনিক সংস্করণ F-7 BG1 (এফ- সেভেন বিজি ওয়ান) । এতে রয়েছে প্রথাগত এনালগ ককপিটের পরিবর্তে একাধিক Multi-Function Display সম্বলিত ডিজিটাল ককপিট এবং শক্তিশালী এয়ার ইন্টারসেপ্টর র্যাডার। F-7 যুদ্ধ বিমানসহ সব ধরণের বিমান, র্যাডার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওভারহলিং এর লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু এ্যারোনটিক্যাল সেন্টার। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আমাদের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমান বাহিনী ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি হিসাবে আরও আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু। এছাড়াও আমরা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মনোবল অটুট রাখার জন্য তাঁদের চাকরির সময়সীমা বৃদ্ধি করেছি।




