শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়গণমাধ্যমগুলোকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গণমাধ্যমগুলোকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গণমাধ্যমগুলোকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ফ্রিডম, স্বাধীনতা থাকা ভালো। স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। গণমাধ্যমগুলোকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে অসুস্থ, অসচ্ছল, দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে মিডিয়া বিশাল ভূমিকা রাখে। মিডিয়াকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। যদিও গণমাধ্যম অনেক সময় ভুল সংবাদ পরিবেশন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। গণমাধ্যমসহ সামাজিক বিভিন্ন সাইটগুলো যেন দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর কিছু করতে না পারে সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে মন্তব্য করে সম্প্রচার নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা হুট করে তৈরি করা হয়নি। এটা দীর্ঘদিন ওয়েবসাইটে ছিলো। মানুষ সেখানে মতামত দিয়েছে। কিন্তু এখন যারা এর সমালোচনা করছেন, তারা সেখানে মতামত দেননি। সম্প্রচার নীতিমালা করা সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো। নীতিমালা করার মাধ্যমে সরকার সাংবাদিকদের দাবি পূরণ করেছে- যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদেশি গণমাধ্যমের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব কিছু নীতিমালার মধ্য দিয়ে চলতে হয়। বিবিসি, সিএনএন তারাও নীতিমালার মধ্যে চলে। বিবিসি একটা বিষয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন করার কারণে তার মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ করতে হয়েছে। আপনারাও অধিকার যখন ভোগ করবেন তখন দায়িত্বও পালন করতে হবে।

বিএনপি-জামায়াতকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা এখন সম্প্রচার নীতিমালার বিরোধিতা করছে, খোদা না করুক, তারা ক্ষমতায় এলে এটা আরো কঠিন হবে। এটা খেয়াল রাখবেন। আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস না করলে এতোগুলো বেসরকারি গণমাধ্যমের অনুমোদন দিতো না বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি গণমাধ্যমের অনুমোদনের ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তবে এতে কিছু লোকের বাণিজ্য করার সুযোগও হয়েছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সমালোচনা করার থাকলে তা করবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, যে ডালে বসবেন, সেই ডাল কেটে দেবেন না। তাহলে পড়ে যাবেন। বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটি বাস্তবায়নের বিষয়টি তথ্য মন্ত্রণালয় দেখবে।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে সহযোগিতা করার জন্য সংবাদপত্র মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, এজন্য সাংবাদিকদেরও উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার তাতে সহযোগিতা করবে। কিন্তু পরনির্ভরশীল না থেকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সব কিছু সরকার করে দেবে এ চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বিগত বিএনপি আমলে সাংবাদিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় হাওয়া ভবনের নির্দেশে সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দক্ষিণ অঞ্চলে সাংবাদিকরা টিকতে পারতেন না। কিন্তু আজকে সেই অবস্থা নেই।

পিলখানার বিডিয়ার বিদ্রোহের সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৭টা আটটার দিকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলেন কেন? তার ছেলে লন্ডনে বসে সারা রাত ৪০-৫০ জনের সঙ্গে টেলিফোনে কি কথা বলেছেন? এগুলো বিশ্লেষণ করলে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা বেরিয়ে আসবে। খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, এ ঘটনার সঙ্গে যিনি জড়িত, তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন সেদিন।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিশ্লেষণ করলে বিএনপির চরিত্র বোঝা যাবে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে হত্যার পর শুরু হওয়া হত্যা, হত্যা ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আজকে বন্ধ। হাজার উস্কানি দিয়েও তারা সেটা করতে পারছে না। রাজনৈতিক ভুলের প্রতিশোধ জনগণের ওপর নেওয়া ঠিক হবে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না আসা বিএনপির রাজনৈতিক ভুল ছিলো। তার খেসারত সে দলকেই দিতে হবে।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ আজকে নানা বাধা পেরিয়ে উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। এখন বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু এটা তাদের (বিএনপির) পছন্দ না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, এটাও তাদের পছন্দ না। তিনি বলেন, সব বাধা পেরিয়ে দেশ সাবলম্বী হচ্ছে এবং হবে। দেশকে আমরা সে জায়গায় নিতে পারবো, সে বিশ্বাস আমাদের আছে।

সভাপতির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, গণমাধ্যমকে হলুদ সাংবাদিকতা, গুজব ও মিথ্যার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য একেএম রহমত উল্লাহ, আওয়ামী লীগ সভাপতির তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য সচিব মর্তুজা আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদারসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিকদের জন্য আদালতে আলাদা একটা বেঞ্চ রাখার দাবি করে বলেন, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকরা তাদের পাওনা সঠিক ভাবে পান না। আগে সাংবাদিকদের জন্য আদালতে একটি বেঞ্চ চালু ছিলো। পরে মামলার অভাবে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। সাংবাদিকদের জন্য আবারো আলাদা একটা বেঞ্চ করার দাবি করছি। মাসে অন্তত একদিন হলেও এ বেঞ্চটি সাংবাদিকদের মামলার শুনানি করবেন। বক্তব্যে সাংবাদিক নেতারা অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়িত না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন, অষ্টম ওয়েজবোর্ড অধিকাংশ পত্রিকাতেই বাস্তবায়িত হয়নি। যেসব পত্রিকা সাংবাদিকদের অষ্টম ওয়েজবোর্ড দিচ্ছে না তাদের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা না দেওয়ার দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ