রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়টিআইবি’র কিছু কিছু বক্তব্য ছিলো যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত : হুইপ আ স...

টিআইবি’র কিছু কিছু বক্তব্য ছিলো যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত : হুইপ আ স ম ফিরোজ

সদ্য দশম জাতীয় সংসদ নিয়ে আন্তর্জাতিক গবষেণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর পালামেন্ট ওয়াচ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। টিআইবি’র প্রকাশিত প্রতিবেদনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বুধবার পার্লামেন্ট মেম্বরস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টিআইবি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তার সবই প্রত্যাখ্যান যোগ্য নয়। তাদের কিছু কিছু প্রস্তাব আছে যা আমাদের গ্রহণ করা উচিত। তবে টিআইবি’র কিছু কিছু বক্তব্য ছিলো যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আগামীতে এ ধরণের প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে আরো সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আ স ম ফিরোজ বলেন, বিএনপির অনুপস্থিতিতে সংসদে তাদের নিয়ে আলোচনা অশোভন হলেও মেনে নিতে হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করে বিভিন্ন সময় অশালীন বক্তব্য দিয়েছে তারেক জিয়া এবং বিএনপি নেতারা। তাদের এই বক্তব্যর জবাব দিতে অনেক সংসদ সদস্যই বিবেকের তারণায় সংসদে বিএনপিকে নিয়ে আলোচনা করেছে। এটা দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিলো না।

তিনি বলেন, দশম নির্বাচন বর্জন করায় বিএনপির কোনো সদস্য সংসদে নেই। তবে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে দেশে এবং দেশের বাইরে সংবিধান ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের কটূক্তির জবাব দিতে গিয়ে সংসদ এমন সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সেই সঙ্গে এই মন্তব্যকে মেনে নিতে হবে বলেও জানান আ স ম ফিরোজ।

সংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি দেশকে অকার্যকর করতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দেশে একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চলছে। অথচ তারেক রহমান ও বিএনপির কিছু নেতা বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান নিয়ে কটূক্তি করেই যাচ্ছে। তাই সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিবেক থেকে সংসদে বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনা করছে। অনেক সংসদ সদস্য আছেন যারা মুক্তিযোদ্ধা। তারা বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান নিয়ে কোনো সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। তাই নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকেই সমালোচনা করেছেন। এটা মেনে নিতে হবে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হতেও পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন। কেবল তো সংসদের বয়স ৭ মাস। এখনও অনেক সময় আছে। হঠাৎ করেই দেখবেন বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ৭ জুলাই টিআইবি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধীদল জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে পারছে না’ টিআইবির ওই বক্তব্য নিতান্তই অমূলক। বরং সংসদ অধিবেশনগুলোতে বিরোধীদলের কার্যকর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

তিনি বলেন, দশম সংসদের বিরোধীদল দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংসদে স্বত:স্ফূর্তভাবে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেছে। বিরোধী দলের কার্যকরী অংশ গ্রহণের সংসদ প্রাণবন্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিগত সংসদ অধিবেশনগুলোতে বিরোধীদলের অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার, ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক কথাবার্তা ব্যবহারের যে নজির, তা বর্তমানে অনেকাংশে দূর হয়েছে যা একটি কার্যকর সংসদেরই সুস্পষ্ট প্রমাণ।

তিনি বলেন, টিআইবির প্রতিবেদনে নবম সংসদের কয়েকজন মন্ত্রীকে দশম সংসদে একই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করায় সমালোচনা করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন চিফ হুইপ। এর আগে একই মন্ত্রণালয়ে কাজ করার কারণে মন্ত্রণালয়গুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্বলতা সম্পর্কে তারা পুরোপুরি অবগত রয়েছেন। এ অভিজ্ঞতার আলোকে কমিটিকে তারা কার্যকর ভূমিকার রাখতে পারবে।টিআইবি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অসংসদীয় শব্দ ব্যবহারের প্রেক্ষিতে স্পিকার নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এটাকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেন চিফ হুইপ।

তাছাড়া টিআইবি কোরাম সংকটের কারণে প্রায় ৮ কোটি ১ লাখ টাকা অপচয়ের যে তথ্য দিয়েছে অর্থাৎ প্রতি মিনিট গড়ে প্রায় ৭৮ হাজার টাকা। এটারও কোনো ভিত্তি নেই বলে জানান তিনি।টিআইবির গবেষণা সমম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, টিআইবি যে গবেষণা প্রকাশ করেছে তা কি পদ্ধতিতে করেছে তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। তবে এ ধরণের গবেষণা প্রকাশের আগে আরো আন্তরিক হবে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান করেন তিনি। এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, শাহাবুদ্দিন ও সোলায়ামান জোয়াদ্দার ছেলুন।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ