শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়টানা বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী

টানা বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী

আষাঢ় মাসের মাঝামাঝিতে একটানা বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী। যানবহন সমস্যা, কর্দমাক্ত রাস্তা আর জলাবদ্ধতা এই তিন সমস্যার মুখোমুখি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।  তবে রোববার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমে যাবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।  শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর পরিচালক শাহ আলম টেলিফোনে বলেন, গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সর্ব্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে সীতাকুণ্ডে। তিনি জানান, আষাঢ় মাসে বৃষ্টি থেমে থেমে হবে। তবে একটানা বৃষ্টি কাল থেকে হবে না।

শনিবার রাজধানী মতিঝিল এলাকায় সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত  অপেক্ষা করার পর মহাখালীগামী বাস পেয়েছেন আমির হোসেন। ১২টার দিকে মহাখালীর ওয়্যারলেস গেটে বাস থেকে নামার পরই একটি দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন ‍তিনি।
আমির হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা আর কাদাযুক্ত রাস্তায় হাঁটা যাচ্ছে না। এদিকে বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সময়মতো পৌঁছাতে না পারার কারণে আজ কাজটা করতে পারলাম না। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে শুধু আমির হোসেন নন তার মতো পুরো নগরবাসীর একই অবস্থা। রাজধানীর শাহবাগ, গুলিস্তান, মিরপুর, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় ‍সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রাজধানীবাসী।

মিরপুর থেকে বনানী আসতে প্রায় দুই ঘণ্টা লেগেছে হাবিবের। তিনি জানান, মিরপুর এলাকার প্রধান প্রধান সড়কের অধিকাংশ সড়কই বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। ফলে গাড়িসহ সাধারণ মানুষ রাস্তায় চলাচল করতে পারছে না। চরম অসুবিধায় পড়েছেন  রাস্তায় বের হওয়া মানুষজন।

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের রাস্তা খোড়াখুড়ির কাজ চলায় বিপাকে পড়েছেন পথচারীরা। একদিকে সময়মতো যানবহন পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাবেন সেই উপায়ও নেই। বনানী থেকে মহাখালীর আমতলীতে হেঁটে আসতে শামিমের সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। শামিম জানান, খুবই বাজে অবস্থা। বৃষ্টি হলেই তাদের কাজের কথা মনে পড়ে। কিন্তু পথচারীরা যে ভোগান্তিতে পড়েন তা কেউ বোঝার চেষ্টা করেন না।

এদিকে সামনে ঈদ উপলক্ষে ফুটপাতের দোকারিরাও বিপদে পড়েছেন এই একটানা বৃষ্টির কারণে। একেতো ক্রেতা নেই, অন্যদিকে বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে তাদের মালামাল। ফুটপাত দোকানি হামজা বলেন, ঈদ এলেই তাদের একটু ব্যবসা হয়। এভাবে একটানা বৃষ্টি হলে ব্যবসায় লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের। তবে রমজান মাসে এরকম শীতল আবহাওয়া থাকলে ভালো হয় বলে মনে করছেন অনেকেই। এ বিষয়ে রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আষাঢ় মাসের রোদ খুবই প্রখর। তাই আবাহওয়া যদি ঠাণ্ডা থাকে তাহলে ভালো হয়। আর এবার রোজাও তো অনেক সময় ধরে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ