১৯৭৮ সালের পর আবার নিজেদের মহাদেশে বসেছে বিশ্বকাপের আসর। হয়তো কিছুটা বাড়তি অনুপ্রেরণাই পাচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো। আর্জেন্টিনা আর স্বাগতিক ব্রাজিল তো বিশ্বকাপেরই অন্যতম প্রধান ফেভারিট। ইতালি-ইংল্যান্ডকে হারিয়ে উরুগুয়েও পেরিয়ে গেছে ‘ডি’ গ্রুপের মৃত্যুকূপ। চিলিও গতবারের শিরোপাজয়ী স্পেনকে হারের স্বাদ দিয়ে বিদায় করে দিয়েছে প্রথম রাউন্ড থেকে। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রেখেছে কলম্বিয়া। চারিদিকে শুধু লাতিন ফুটবলেরই জয়জয়াকার। একমাত্র ব্যতিক্রম ইকুয়েডর। এবারের বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার একমাত্র দেশ হিসেবে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিল তারা।
দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পাওয়ার জন্য আজ ফ্রান্সের বিপক্ষে জিততেই হতো ইকুয়েডরকে। অথবা প্রার্থনা করতে হতো যে, হন্ডুরাস যেন সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়। তাহলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ ছিল ইকুয়েডরের সামনে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। সুইজারল্যান্ডই ৩-০ গোলে হারিয়েছে হন্ডুরাসকে। আর ফ্রান্সের বিপক্ষে গোলশূণ্য ড্র করে মাঠ ছেড়েছে ইকুয়েডরের ফুটবলাররা। গোলরক্ষক আলেকজান্ডার দমিনগেজ ভালো পারফরম্যান্স না দেখাতে পারলে হয়তো দু-একটা গোলও হজম করতে হতো ইকুয়েডরকে।
ইকুয়েডরের জয়ের আশা ফিকে হয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। ৫০ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন ইকুয়েডরের অধিনায়ক আন্তনিও ভ্যালেন্সিয়া। বাকি সময়টা দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়াই খেলতে হয়েছে ইকুয়েডরকে। তারপরও ৫৩ ও ৮০ মিনিটে দারুণ দুইটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ইকুয়েডর। কিন্তু লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি ক্রিস্টিয়ান নোবোয়া ও মিকায়েল আরোয়ো। গোলশূণ্য এই ড্রয়ের ফলে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে গেছে ফ্রান্স। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়া। ছয় পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করা সুইজারল্যান্ডকে খেলতে হবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।




