সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিন৩ ও ৬ মাস বহিষ্কারে সন্তুষ্ট নয় নাসির অনুসারীরা, আন্দোলনের হুমকি

৩ ও ৬ মাস বহিষ্কারে সন্তুষ্ট নয় নাসির অনুসারীরা, আন্দোলনের হুমকি

নাহিদ উল আলম, চবি প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক নাছির হায়দার বাবুলের উপর হামলা ও জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্চনার ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করলেও সন্তুষ্ট হয়নি তার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের এ অংশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের ৩ মাস ও ৬ মাস করে অস্থায়ী বহিষ্কারের মাধ্যমে পক্ষান্তরে এ ধরণের ঘটনাকে উৎসাহিত করেছে। লোক দেখানো এ বহিষ্কার আদেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আঁতাত করেছে। তাই আবারো অবরোধে মতো কর্মসূচি আহ্বান করতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অমিত কুমার বসু  বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা প্রশাসনের উপর আর আস্থা রাখতে পারছি না। আলোচনা করে ২৮ মে’র পর গনতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচী দেওয়া হবে। আন্দোলনের কর্মসূচীর মধ্যে অবরোধের মত কর্মসূচীও থাকতে পারে।’

যুগ্ন সম্পাদক সুমন মামুন  বলেন, ‘প্রশাসন অন্যায়কারীদের সঙ্গে আঁতাত করে প্রহসনমূলক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। এ অস্থায়ী বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে আরো উসকে দিয়েছে।’

বহিষ্কারাদেশের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মো. সিরাজ উদ দৌলাহকে  বলেন, ‘বোর্ড জরুরী সভা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে পাঁচ ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে। তবে, তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।” এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বৈঠকে পাঁচ জনকে বহিষ্কার করলেও কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি নাসির হায়দারকে লাঞ্ছনাকারি ছাত্রলীগ অংশের নেতারা। একাধিক নেতার কাছে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও  তারা কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

প্রসঙ্গত,  গত ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ আলমের স্মরন সভায় যোগ দিতে এসে নিজ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা নাসির হায়দার বাবুল। এ ঘটনায় এর আগে  ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পাঁচ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

এছাড়া, একই ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ী ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবিতে টানা সাত দিন অবরোধ পালন করে ছাত্রলীগের একাংশ। পরে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছিল। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটির এক বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতা লাঞ্চনার ঘটনায় ইংরেজি বিভাগের (১০-১১) শিক্ষার্থী রুবেল দে ও শাহরিদ শুভকে ছয় মাস এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংষ্কৃতি বিভাগের(১০-১১) আসিফুজ্জামান আসিফ, ইংরেজি বিভাগের(১০-১১) সোহেল খান এবং কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (১০-১১) মেহেরাজ হোসেনকে তিন মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ