ব্রেকিং নিউজ

সংসদীয় কমিটিগুলো জন্ম নিয়েই অনিয়ম শুরু

প্রথমবারের মতো ঐকমত্যের ভিত্তিতে গড়া দশম জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলো জন্ম নিয়েই অনিয়ম শুরু করে দিয়েছে। স্পষ্টতই লঙ্ঘন করছে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি। সংসদীয় গণতন্ত্রে এসব কমিটি ছায়া মন্ত্রণালয় হিসেবে বিবেচিত হলেও সুপারিশ ও পরামর্শ দেয়া দূরে থাক, নিয়মিত বৈঠক করার বাধ্যবাধকতার বিষয়টিকেও তোয়াক্কা করছেন না গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর প্রধান হিসেবে থাকা সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। সংসদের কর্ণধার স্পিকারের নেতৃত্বাধীন কমিটিগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। অবশ্য ভিআইপি নেতাদের প্রধান করে কমিটি গঠনের পর এমন আশঙ্কাই ব্যক্ত করেছিলেন সংসদ সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রতিটি স্থায়ী কমিটি মাসে অন্তত একটি বৈঠক করবে। তবে যে কোনো কারণে বিধি অনুযায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করা না হলে স্পিকার সচিবকে কমিটির বৈঠক আহ্বানের নির্দেশ দিতে পারবেন। সচিব তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করে বৈঠক আহ্বান করবেন।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ৫ ফেব্র“য়ারি শুরু হয়ে ১ এপ্রিল চার দফায় মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। যার মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি কমিটিতে সভাপতি পদ দেয়া হয়েছে সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের। এদের মধ্যে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হন সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোজাম্মেল হোসেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হন। এসব ভিআইপি সভাপতির দায়িত্ব নিলেও নির্দিষ্ট সময়ের এদের অনেকেই কমিটির কোনো বৈঠক করতে পারেননি।

বৈঠক না হওয়া গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, অর্থ, শিল্প, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, তথ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন, ভূমি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি অন্যতম। অবশ্য এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের ১৫ দিনেরও বেশি সময় পর বৈঠক করেছে।

যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠানো হয়েছে অভিযোগের আঙুল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সেই মন্ত্রীরাই দায়িত্ব পালন করছেন দশম জাতীয় সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির। অনেককে আবার বিগত সময়ে যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন সেই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিরই প্রধান করা হয়েছে। সুপারিশ প্রণয়নে যৌক্তিক পরামর্শ দেবেন এমনটি ভেবেই মন্ত্রণালয় পরিচালনায় জ্ঞানলব্ধ নেতাদের সংসদীয় কমিটিতে সভাপতির পদ দেয়া হয়েছে ঠিকই তবে এতে কাজের কাজ কিছুই হবে না বরং সংসদীয় গণতন্ত্র আরো বেশি বাক্সবন্দি এবং মন্ত্রী-সভাপতি ঐক্যে অনিয়মই আরো বেশি বেগবান হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংসদীয় কমিটি পরিচালনায় অভিজ্ঞজনরা। আসন বদলের কারণে যদি ব্যক্তিগত রেষারেষি ও বিরোধ সৃষ্টি হয় তাহলে তা দেশের জন্য যেমন ক্ষতি বয়ে আনবে তেমনি সংসদীয় গণতন্ত্র বিকাশের পথেও অন্তরায় হয়েও দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, দশম সংসদের কমিটি গঠনের পর বিভিন্ন কমিটি অর্ধশতাধিক বৈঠক করেছে। এর মধ্যে কোনো কোনো কমিটি নির্দিষ্ট সময়ে একাধিক বৈঠক করলেও ১০টি সংসদীয় কমিটি একটিও বৈঠক করেনি। এতে কার্যপ্রণালি বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রে অনাকাক্সিক্ষত। এটা মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে বাধাগ্রস্ত করবে। বৈঠক না করায় ওই সব সভাপতির সংসদীয় কার্যক্রমের প্রতি আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা। তবে সংসদীয় কার্যক্রমকে গতিশীল করতে তাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, কমিটি গঠনের পর অফিসসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় চলে গেছে। সে কারণে কমিটির বৈঠক ডাকতে দেরি হয়েছে।

About bdsomoy