সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়বিএনপিকে ভারতের নতুন দালাল হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিএনপিকে ভারতের নতুন দালাল হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

বিএনপিকে ভারতের নতুন দালাল হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেছেন, এতদিন আওয়ামী লীগ ছিল ভারতের দালাল। ভারতের সরকার পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার দালালও পরিবর্তন হয়েছে। এতদিন যারা আমাদের ভারতের দালাল বলত এখন তারাই ভারতের দালালি করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে মন্ত্রীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সময় এসব কথা বলেছেন। বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসব কথা জানা যায়। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানায়া, অনানুষ্ঠানিক এ আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। এ সময় প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি তো ভারতের ভালো কিছু দেখে না। এখন ভারতের নতুন সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে কি তারা নতুন দালাল সেজেছে? এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এটি ভালো দিক। কারণ তারা হয়ত এখন ভারতের ভালো কিছু দেখতে পারছে। এখন আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তাদের ভুল ভেঙে যাবে। মন্ত্রিসভার এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী চীন, জাপান ও ভারতকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্র আরও জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমে দুর্ঘটনাসহ সহিংসতার বীভত্স ছবি প্রকাশ বন্ধ করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গণমাধ্যম বিষয়ে দেখভাল করার জন্য জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালাটি আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রণয়ন করতে হবে। এ সময় গণমাধ্যমের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন এসএসসি পরীক্ষায় ফল ভালো হলেও শিক্ষার মান বাড়েনি। তারা শহরে না থেকে গ্রামে গিয়ে শিক্ষকতা করলে ভালো হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেন মেঘনার তীর দখল করে অবৈধ বালু ব্যবসা করছেন। বুড়িগঙ্গায় হাজী সেলিম, তুরাগে ইলিয়াস আলীসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান দখল করে রাখছে। এ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। এ সময় আরও কয়েক মন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা শোনার পর বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু এবং শীতলক্ষ্যা দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদীর তীর দখলকারীদের উচ্ছেদ করে পথচারীদের জন্য ওয়াকওয়ে করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বলেন, যে করেই হোক নদী বাঁচাতে হবে। পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। দখলকারীরা যতই শক্তিশালী হোক তাদের উচ্ছেদ করতে হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া যাবে না। আমি চাই নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে যে টাস্কফোর্স রয়েছে তারা অতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। বৈঠকে বর্জ্য নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা এবং এসব বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য সরকারের যে প্রকল্প রয়েছে তার কাজ দ্রুত শুরু করারও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে সোমবারও মন্ত্রিসভার কৈঠকে ছিলেন না দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এ নিয়ে পরপর মন্ত্রিসভার তিনটি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন তিনি। তবে সোমবার দুপুরে তিনি সরকারি সফরে থাইল্যান্ড গেছেন। এ কারণেই তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি বলে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী থাইল্যান্ডে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকা ছেড়েছেন। আগামী ২২ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করেই সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেননি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার কতটি বৈঠকে মন্ত্রীরা অনুপস্থিত থাকতে পারেন— এ প্রশ্নের জবাবে মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক আইন ২০১৪-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের কার্যক্রম বিস্তৃত করার মাধ্যমে অধিকসংখ্যক লোককে এর সেবার আওতায় আনা এ নতুন আইনের লক্ষ্য বলে বৈঠক শেষে প্রেসব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, সামরিক শাসনামলে জারি করা একটি অধ্যাদেশকে সামান্য পরিবর্তন, পরিমার্জন ও হালনাগাদ করে এ আইনটি বাংলায় করা হচ্ছে।

এ আইনে কৃষি এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের সংজ্ঞা বিস্তৃত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ মাছ ও পশুপণ্য কৃষির অংশ হবে। জেলেদের পাশাপাশি পশুপণ্য ও পোলট্রি উত্পাদনকারীদের ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে গণ্য করা হবে। রংপুর বিভাগকে এ ব্যাংকের অধীনে ন্যস্ত করা হবে। ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ হওয়ার কারণে ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৭ থেকে বাড়িয়ে ১১ এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের একটি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকের নতুন শাখা খোলার পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ও অনলাইন সেবা প্রবর্তনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি নতুন কোনো আইন নয়। সামরিক শাসনামলে ‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক অধ্যাদেশ-১৯৮৬’ নামে জারি করা অধ্যাদেশটিই হালনাগাদ করে বাংলায় সংস্করণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া দেশে কৃষি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে খুলনায় একটি নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য মন্ত্রিসভায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানান। তিনি বলেন, ২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভা ২০১১ সালের অক্টোবরে কয়েকটি পর্যবেক্ষণসহ নীতিগতভাবে এ আইনের খসড়া অনুমোদন করেছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে খুলনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বৈঠকে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের গত ২০ থেকে ২৬ এপ্রিল জাপান সফরের বিষয়টি মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয় বলেও সচিব জানান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ