ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
“রান্না করা শিখেছো, বাড়িতে মাকে সাহায্য করো?” কিশোর এক স্কাউটের কাছে জানতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিশোরের দ্রুত উত্তর হ্যাঁ.. করি। খুশি হলেন প্রধানমন্ত্রী। খুব ভালো বলে সামনে এগিয়ে গেলেন। স্কাউটিং শিখে কিশোর তরুণরা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তবে তারা স্কাউটিং থেকে অর্জিত দক্ষতা ও জ্ঞান পারিবারিক প্রয়োজনেও কাজে লাগাবে এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে।
গাজীপুর কালিয়াকৈরের মৌচাকে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নবম বাংলাদেশ ও প্রথম সানসো স্কাউট জাম্বুরী উদ্বোধন করে স্কাউটদের ক্যাম্পগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। একটি ক্যাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে যখন খোঁজ-খবর নিচ্ছিলেন তখন সাহসী কিশোরটির ভিতরে যাওয়ার আহ্বান।
নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা হয়তো প্রস্তুত ছিলেন না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিনা বাক্যব্যয়ে ঢুকে পড়লেন ক্যাম্পের ভেতরে। রান্নার আয়োজন ছিলো সেখানে, তা দেখেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন কি কি রান্না জানে ওরা। বয়স্ক একজন স্কাউট জানালেন, সবকিছুই রান্না করা শিখেছে এই স্কাউটরা।
স্কাউটারদের সঙ্গে একটি দারুণ সকালই কাটালেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে গাজীপুর পৌঁছে মৌচাকের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যখন যান তখন চারিদিকে স্কাউটদের চিৎকার.. প্রধানমন্ত্রীর আগমন… শুভেচ্ছা স্বাগতম। সঙ্গে স্কাউটিংয়ের নিজস্ব এক-দুই…. এক-দুই-তিন ছন্দের করতালি।
মন ভালো করে দেওয়ার পরিবেশ সেখানে। হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই মন ভালো হয়ে যাওয়ার প্রকাশ দেখা গেলো। দ্রুত তাকে পরিয়ে দেওয়া হলো স্কাউট ব্যাজ। নীল ও অফহোয়াইটের কম্বিনেশনে শাড়ি, মাথায় লাল-সবুজের স্কাউট হ্যাট, গলায় স্কাউটের স্কার্ফ পরে একজন পুরোদস্তুর স্কাউটের বেশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রহণ করলেন স্কাউট স্যালুট। স্যালুটের ভঙ্গিমাটিও ছিলো স্কাউটারের মতো। এরপর যখন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চারিদিকে অ্যাসেম্বলির মতো সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্কাউটদের দিকে এগিয়ে গেলেন তখন প্রধানমন্ত্রীর হাঁটার ভঙ্গিতেও ছিলো স্কাউটিংয়ের প্রকাশ।
স্কাউটদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সারাদেশে যে স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ ক্যাম্প হয়েছিলো তাতে অংশ নেন। সেকথা স্কাউটদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স করার কথাও স্মরণ করেন। দেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকা-ে স্কাউটদের দক্ষতা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কার্যকর অবদানের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এই দুই খাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত করে সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে এগিয়ে আসতে স্কাউটদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
ক্যাম্পগুলোতে ঘুরতে ঘুরতে এক পর্যায়ে গোপালগঞ্জের কমলকুঁড়ি বিদ্যানিকেতন স্কাউট দলের ক্যাম্পটিতেও ঢোকেন। সেখানেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কিশোর স্কাউটদের সঙ্গে আলাপ জমান। কিশোররা এসময় স্বতস্ফ’র্তভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়াও সার্কদেশগুলো থেকে আসা স্কাউটদের মধ্যে ভুটানের স্কাউটদের ক্যাম্পে ঢুকেও তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য স্কাউট এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই জাম্বুরীতে গাজীপুর, রংপুর, খুলনা, শরিয়তপুর কন্টিনজেন্টের স্কাউটরা তাদের কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিয়ে হাজির হয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে। শিশু কিশোররা দেশপ্রেম, জাতীয় উন্নয়ন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে নানন্দিক সব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুগ্ধ হয়ে তা উপভোগ করেন।




