ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
কলাম লেখা ও প্রকাশের মাধ্যমে আদালত অবমাননার দায়ে দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই মামলার শুনানির সময় আদালতে এসে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকার সময়কে দণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে বলে রায় দেন আদালত। হাইকোর্টে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় তাকে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। তবে তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের উপ সম্পাদকীয় বা কলাম প্রকাশ না করতে সতর্ক করে দেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। প্রথম আলোর আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
রায়ে বলা হয়, মিজানুর রহমান খান এ মামলা চলাকালে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে আর কোনো দণ্ড দেওয়া হলো না। তার (মিজানুর) লেখার মাধ্যমে আদালতকে তিনি চরমভাবে অবমাননা করেছেন। তার বিরুদ্ধে এখনো চারটি আদালত অবমাননার রুল বিচারাধীন রয়েছে।
এর আগে প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলের শুনানিতে আইনজীবীদের মন্তব্য নিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় বুধবার আদালতের তলবে হাজির হওয়া সাতজন সাংবাদিক নেতাকে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই বিবৃতি প্রকাশ করায় আদালতের জারি করা রুল থেকে অব্যাহতি পায় দৈনিক সমকাল ও দৈনিক নয়া দিগন্ত।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি শাহেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এমএম জসিম ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কাজী মোবারক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এম সুজাউল ইসলাম এবং বরিশাল বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান অব্যাহতি পান আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে। তাদের মধ্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও বরিশাল বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একই ব্যক্তি।
প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলের শুনানিতে আইনজীবীদের মন্তব্য নিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় ওই সাত সাংবাদিক নেতাকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই বিবৃতি প্রকাশ করায় কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয় দৈনিক সমকাল ও দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকরের বিরুদ্ধে।
সাংবাদিক নেতা, দৈনিক সমকাল ও নয়া দিগন্তের পক্ষে ছিলেন ড. শাহদীন মালিক, এহসান এ সিদ্দিকী ও মো. মনজুর আলম। রুলের পক্ষে ছিলেন আহসানুল করিম। শাহদীন মালিক পরে সাংবাদিকদের বলেন, রুলের নিষ্পত্তি করে তাদেরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
২ মার্চ স্ব-প্রণোদিত হয়ে প্রথম আলো পত্রিকার বিরুদ্ধে রুল জারি করেন বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ১ মার্চ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পর পর দু’দিন প্রথম আলো পত্রিকায় কলাম লেখার মাধ্যমে আদালত অবমাননার জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে ৬ মার্চ হাজির হয়ে তার লেখা কলামের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ তলবে শুনানি চলাকালে চারদিনই হাজির ছিলেন মিজানুর রহমান খান।
অন্যদিকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে রুলের জবাব দিতে বলা হলে তিনি গত সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দাখিল করেন। তিনি নিজেই এ জবাব দিয়েছেন কিনা তা জানতে মঙ্গলবার মতিউর রহমানকে তলব করেন আদালত। মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন মতিউর রহমানও। শুনানির এক পর্যায়ে মতিউর রহমান ও মিজানুর রহমান খান ভুল স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। প্রথম আলোর পক্ষে শুনানি করেন ড. শাহদীন মালিক। আদালতের রুলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আজমালুল হক কিউসি ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন।
এদিকে ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু তালেব প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রতিকার চেয়ে পৃথক একটি আবেদন করেন। তার এ আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের একই বেঞ্চ এ আবেদনের বিষয়ে একই আদেশ দেন বলে জানান রিটের পক্ষের আইনজীবী আহসানুল করীম।
২৮ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোর মতামত পাতায় ‘মিনিটে একটি আগাম জামিন কীভাবে?’ এবং শনিবার ১ মার্চ ‘ছয় থেকে আট সপ্তাহের স্বাধীনতা’ শিরোনামে পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের কলাম প্রকাশিত হয়।




