ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও মুদ্রা পাচার (মানি লন্ডারিং) নজরদারিতে সফটওয়্যার চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও তরান্বিত করতে জাতিসংঘের সহায়তায় এই সফটওয়্যার সংগ্রহ ও স্থাপন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত করতে মূলত এ সফটওয়্যার।
সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান নতুন এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা।
এসময় জানানো হয়, নতুন এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে এখন থেকে ব্যাংকসহ সব রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার কাছ থেকে অনলাইনে তাদের নগদ লেনদেন প্রতিবেদন, সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন, অভিযোগ গ্রহণ করা এবং তা বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।
সফটওয়্যারের উদ্বোধন করে ড. আতিউর রহমান বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বর্তমানে শুধুমাত্র কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয় বরং বর্তমানে এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।
বিএফআইইউ রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্যে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য প্রেরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণী সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) বেশকিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক এসব সুপারিশ পরিপালনের জন্য সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সুপারিশমালায় বিএফআইইউকে শক্তিশালী করতে বিশ্লেষণধর্মী সফটওয়্যার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গভর্নর বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমে সম্প্রতি আমাদের অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনগত কাঠামোর উন্নয়ন, জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন, এগমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ লাভ, ১৬টি দেশের এফআইইউ’র সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। এফএটিএফ এর ‘গ্রে-লিস্ট’ থেকেও আমরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি বলে জানান গভর্নর।




