শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ২১ কেন্দ্র স্থগিত : দ্বিতীয় পর্বের ভোট শেষ

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ২১ কেন্দ্র স্থগিত : দ্বিতীয় পর্বের ভোট শেষ

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ব্যালট ছিনতাই এবং হতাহতের ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ১১৫টি উপজেলার ভোট। উপজেলার নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে বৃহস্পতিবার এসব উপজেলার ৮ হাজার ১৩১টি কেন্দ্রে  সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলে। ভোটগ্রহণ শেষেই কেন্দ্রে  কেন্দ্রে গণনা শুরু হয়।

দুপুরের পর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার নান্দিয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একজন। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি ও বাগেরহাটের ফকিরহাটে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে এলাকাবাসী।

সচিব জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ায় নোয়াখালী সদর উপজেলার সবকেন্দ্রে ভোট স্থগিত করেছে ইসি। এছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশের একটি, বরিশাল সদরের ১১টি, ফরিদগঞ্জের ৮টি ও ফেনী সদরের একটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় মোট ২১টি কেন্দ্র স্থগিতের খবর দিলেও স্থানীয়ভাবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা আরো বেশি।  এরপরও নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোট হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে।

অন্যদিকে প্রথম পর্বের ভোটে এগিয়ে থাকা বিএনপির অভিযোগ, এবার ‘ক্ষমতাসীনদের কেন্দ্র দখলের মহোৎসব’ হয়েছে।
কারচুপি, কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের মারধরের অভিযোগ এনে নোয়াখালীর কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ, যশোরের শার্শা ও চৌগাছা, বরিশাল সদর এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট চলাকালেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জে শুক্রবার, শার্শা ও চৌগাছায় শনিবার এবং চকরিয়ায় ও বরিশাল সদরে রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতালও ডেকেছে স্থানীয় বিএনপি।
বিকাল পৌনে ৪টায় ইসির সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে। কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সব মিলিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।”
সকালে ভোটের তিন ঘণ্টার মাথায় বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলে, “আমরা গত কয়েকদিন ধরে যে শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা বলে আসছিলাম, সকালে দুই ঘণ্টার মধ্যে ভোটকেন্দ্র্রে ক্ষমতাসীনদের তাণ্ডবে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। আমাদের আশঙ্কাই সত্য হয়েছে।
“প্রথম দফার নির্বাচনে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ে হতভম্ব হয়ে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের অনুকূলে ফলাফল নিতে ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে অবাধে সিল মারছে। এ যেন কেন্দ্র দখলের মহোৎসব।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ অনেক আসতে পারে। যে কোনো জায়গা থেকেই তা হতে পারে। কিন্তু আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি।”
ঠাকুরগাঁও, যশোর, মুন্সীগঞ্জ, ফেনী, বরিশালসহ বেশ কিছু উপজেলায় সহিংসতা-সংঘর্ষের ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা ‘প্রয়োজন অনুযায়ী’ ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
১১৫টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যানের মোট ৩৪৫টি পদে ১৩ শ’র বেশি প্রার্থী  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার ছিলেন ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫১ হাজার ১৭৬ জন।
তবে সারা দিনে কতো শতাংশ ভোট পড়েছে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি নির্বাচন কমিশন।
সিরাজুল ইসলাম জানান, ভোটের সময় ক্ষেতলাল উপজেলার ৩১ নম্বর ভোটকেন্দ্রে পলাশ চন্দ্র মহন্ত (৩০) এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলার ১৯২ নম্বর কেন্দ্রে শহীদুল ইসলাম নামের দুই পোলিং কর্মকর্তা হৃদরোগে মারা গেছেন। ইসির মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী, উপ সচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ, জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয় পর্বের ভোটতথ্য দ্বিতীয় পর্বে তিন পদে ৫২ জেলার ১১৭ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩৭৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান  প্রার্থী ৫২১ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩৪০ জন।

এ ধাপের মোট ভোটার ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫১ হাজার ১৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪১ জন, নারী ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৩৫ জন। দুটি উপজেলা মহেশখালী ও হাইমচরে বৃহস্পতিবার ভোট না হওয়ায় ৩৬ প্রার্থী ও আড়াই লাখ ভোটার কমবে। ১১৭ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮ হাজার ১৩১টি, ভোটকক্ষ ৫১ হাজার ৬৯৮টি।

প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, প্রতি ভোটকক্ষের জন্য এক জন করে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিকক্ষে ছিলেন দুই জন করে পোলিং কর্মকর্তা (মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন)।
সহিংসতার মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনের এক মাসের ব্যবধানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে ৯৮ উপজেলায় ৬২ শতাংশ ভোট পড়ে। প্রথম পর্বে ছোটোখাটো দুয়েকটি ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয় বলে ইসির পাশাপাশি পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলোও জানায়।

ওই পর্বে একটি উপজেলা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়ায় ফল স্থগিত হয়ে যায়, সেই কেন্দ্র দুটিতে আগামী ৩ মার্চ ভোটের দিন ইতোমধ্যে ঠিক করেছে ইসি।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১৭ উপজেলায় ভোট গ্রহণের তফসিল হলেও কক্সবাজারের মহেশখালী ও চাঁদপুরের হাইমচরে ভোট এদিন হয়নি। আদালতের আদেশে আটকে যাওয়া মহেশখালীতে ভোট হবে ১ মার্চ, হাইমচর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ