ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদের হিসাবে সংখ্যাগত ভুল হয়েছে এবং তা অসাবধানে হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক। একই সঙ্গে তাঁর নিজের নামে ‘কোনো ধরনের অবৈধ সম্পদ’ নেই বলেও দাবি করেন এই সাংসদ।
আজ সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ দাবি করেন। বেলা ১১টা থেকে দুইটা পর্যন্ত দুদক ভবনের পাঁচতলায় ভিআইপি রুমে সাবেক এ মন্ত্রীকে অতিরিক্ত সম্পদ ও হলফনামার তথ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মীর্জা জাহিদুল আলম।
এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল হক বলেন, ‘২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় হলফনামা পূরণের ক্ষেত্রে অসাবধানতাবশত এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে আমার স্ত্রীর সম্পদ ৪৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৯২ টাকার জায়গায় সাত কোটি ৯৩ লাখ ১১ হাজার ২৪০ টাকা লেখা হয়েছে।’
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘হলফনামায় অনিচ্ছাকৃত ও ভুলবশত এ তথ্য দেওয়ার পর আমি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এফিডেভিটের মাধ্যমে সংশোধন করার আবেদন করি। নির্বাচন কমিশন আমার আবেদন গ্রহণ করেছে।’
কিন্তু হলফনামায় এত বড় ভুল কীভাবে হলো? পাঁচ বছরে বিপুল সম্পদের মালিকই বা কীভাবে হলেন তাঁর পরিবার?—সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাতক্ষীরা-৩ আসনের এ সাংসদ বলেন, ‘আমি যা বলার দুদককে বলেছি। আর বলতে পারব না।’
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, আ ফ ম রুহুল হকের ব্যাংক হিসাব গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ১০ গুণ। ব্যাংক হিসাবের বেশির ভাগ তাঁর স্ত্রী ইলা হকের নামে। ২০০৮ সালে রুহুল হক ও তাঁর স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল ৯২ লাখ ৩৬ হাজার ১০৮ টাকা। এখন তাঁদের ব্যাংক ব্যালান্সের পরিমাণ ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৩ টাকা। সে সময় ইলা হকের নামে ব্যাংকে ছিল মাত্র চার লাখ ৬৪ হাজার ৩০ টাকা। এখন সাত কোটি ৫৩ লাখ ১১ হাজার ২৪০ টাকা। প্রায় ১৬৫ গুণ বেশি। পাশাপাশি ২০০৮ সালে সাংসদের ব্যাংকে জমা ছিল প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। এখন তা দুই কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে সাংসদের অস্থাবর সম্পদ চার গুণ বেড়েছে। চার কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ১৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা। এককভাবে স্ত্রী ইলা হকের সম্পদ বেড়েছে আট গুণ। ৯৫ লাখ টাকা দামের অস্থাবর সম্পদের মূল্য এখন আট কোটি ৩৯ লাখ টাকা।




