ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
এমন দৃশ্য আমরা সচরাচর নাটক-সিনেমায় দেখে থাকি। রোববার সকালে এমনই সিনেমাটিক ভাবে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জেএমবি সদস্যদের ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যান থেকে ছিনতাই করে নিয়ে যায় তাদের সহযোগী জঙ্গিরা। তবে এর মধ্যে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাকিবসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা ৭টার পরে সখিপুর থানায় ঢাকা জোনের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাফিজ মাহমুদ রাকিব হাসান ও সহযোগী জঙ্গি জাকারিয়ার কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য জানা গেছে।
তাদের দেওয়া তথ্য মতে, এ ঘটনার পরিকল্পনা করা হয় ১৫ দিন আগে। এ জন্য তারা দু’টি নতুন মাইক্রোবাস কেনেন। সকালে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি সেল থেকে ওই আসামিদে ময়মনসিংহ আদালতে নেওয়ার পথে ত্রিশালে প্রিজনভ্যান থেকে আসামি ছিনতাইকালে তিনটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল থেকে তাদের সহযোগীরা কারাগারের ফটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নেয়। আসামিদের বহনকারী প্রিজনভ্যানটি ময়মনসিংহের ত্রিশালে পৌঁছালে প্রথমে একটি ট্রাক পুলিশের ভানটির সামনে ব্যারিকেট দেয়। এসময় প্রিজনভ্যানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তাদের সহযোগীরা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক কনস্টেবল মারা যান। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের খুব দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। এদের মূল শিখড়ও উপড়ে ফেলা হবে।
টাঙ্গাইল জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম এ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, আসামিরা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার বিষয়টি ১৫ দিন আগের বললেও তা বিশ্বাস করা যায় না। এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বলেই ধারণা পুলিশের।
এর আগে রোববার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সফিপুরের তক্তারচালা এলাকা থেকে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা রাকিবকে গ্রেফতার করে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত এক জঙ্গিকে ময়মনসিংহ আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রিজনভ্যানে বোমা হামলা ও গুলি চালিয়ে তাদের ছিনতাই করে একদল দুর্বৃত্ত। ছিনিয়ে নেওয়া জেএমবি জঙ্গিরা হলেন- জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান, সালাউদ্দীন ওরফে সালেহিন ও রাকিব হাসান রাসেল।




