শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষের ঢল

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষের ঢল

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতেই হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনারে। শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ফুলে ফুলে ভরে উঠে বাঙালির শোক আর অহংকারের এই মিনার।

ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা খালি পায়ে সারি বেধে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রবেশ পথ ও আশপাশে অপেক্ষা করতে থাকে । সবার হাতেই ছিল ফুল ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের মানুষ শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে।
এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। নিরাপত্তার ছক তৈরি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ।
ভাষা আন্দোলনের ৬২ বছর পূর্তি উদযাপনের এই দিনে মানুষের মধ্যে দেখা গেছে আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মিশেল। হাতে ফাগুনে ফোটা রঙিন ফুলের স্তবক। কণ্ঠে বিষাদমাখা চিরচেনা গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’।
১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ঠিক এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ছেড়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তাবক অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধানুষ্ঠান ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা করা হয়েছে।
রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাস ঘুরে দেখা যায়, শাহবাগ, নীলক্ষেত, চানখার পুল, হাই কোর্ট মোড়সহ এই এলাকায় প্রতিটি ফটকে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়েছে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখার পর ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী বলেন, “রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানাতে আসায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।”
এবার দোয়েল চত্বর দিয়ে ঢোকা বন্ধ থাকছে। শহীদ মিনারে যেতে হলে শুধু জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে সারিবদ্ধভাবে যেতে হবে।
শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার বেগম শিরীন শারমিন, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম বেগম রওশন এরশাদ, তিন বাহিনীর প্রধান, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বিভিন্ন  দেশের কূটনীতিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও শিক্ষক সমিতি ।
শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো । এ সময় পলাশী থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত নেমে আসে সাধারণ মানুষের ঢল। শহীদ মিনার থেকে পালাশী মোড়,শাহবাগ থেকে টিএসসিও পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আল কায়েদার অডিওবার্তা প্রকাশের পর জনমনে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, নিরাপত্তা ছকে এ সব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’
কত স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে- জানতে চাইলে বেনজীর বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা স্তরের কথা বলব না। তবে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই এ বিষয়ে দায়িত্ব পালন করবে তা নয়; প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।’ এর আগে সকাল ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শনে আসেন র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বাঙালির আত্মদানের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান শহীদ দিবস। বাঙালির অহংকারের দিন। জাগরণের দিন। তবে এই অর্জন এখন শুধু বাংলাদেশেরই নয়, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয় সারা বিশ্বে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ