আল কায়েদা প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরির বক্তব্যে আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, হেফাজতে ইসলাম এবং জামায়াত যুক্ত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
আজ রবিবার সকালে চট্টগ্রামে এসে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। সকালে চট্টগ্রাম এসে প্রথমে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। পরে মন্ত্রী পর্যটন কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন মোটেল সৈকতও পরিদর্শন করেন।
বিমান মন্ত্রী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এলে ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, জেলা যুব মৈত্রীর সভাপতি শরীফ চৌহান, সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু রায়হান, ছাত্র মৈত্রীর নেতা আশীষ ভৌমিক উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গীবাদী তৎপরতা শুরু হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে। আমরা তখন বলেছিলাম এ তৎপরতার সঙ্গে আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক আছে। কিন্তু তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন এ তৎপরতার সাথে আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক নেই।
মেনন বলেন, ‘আল কায়েদার নেতা জাওয়াহিরির বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে ওই জঙ্গীবাদী তৎপরতার সঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্ক আছে। জাওয়াহিরির আহ্বান এবং খালেদা জিয়ার বক্তব্য এক ও অভিন্ন। দেশে বিভিন্ন সময়ে আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের যেসব ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে মূলত বিএনপির নেত্রীও যুক্ত আছেন।’
তিনি বলেন, আল কায়েদা নেতা জাওয়াহিরির বক্তব্য সত্য, অসত্য যা-ই হোকনা কেন তাতে আমরা বিস্মিত নই। বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরেই আর্ন্তজাতিক ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের লীলাক্ষেত্র হিসেবে তৈরির চেষ্টা চলছে। জাওয়াহিরির বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে এ চেষ্টা এখনও অব্যাহত আছে। মেনন বলেন, ‘বরং জাওয়াহিরির হুমকির মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতের চক্রান্তের বিষয়টি উন্মোচিত হল।’
মেনন বলেন, জাওয়াহিরির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাও তাদের কাছে এখনও গ্রহণযোগ্য নয়। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা যে যুক্তি দিয়েছিল এখনও তাদের কাছে সেই যুক্তিই গ্রহণযোগ্য।
গত বছরের ৫ মে ঢাকা অভিমুখে হেফাজতের লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে মেনন বলেন, আমরা তখনই বলেছিলাম হেফাজতের লংমার্চের উদ্দেশ্য ইসলাম কায়েম নয়। তাদের লক্ষ্য ছিল সরকার উৎখাত করে মৌলবাদ কায়েম করা। এখন জাওয়াহিরির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হেফাজতের সঙ্গে জঙ্গীবাদের সম্পর্ক প্রমাণিত হল।
মেনন বলেন, আন্তর্জাতিকভবে এদেশে সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের যত চেষ্টাই হোক না কেন, বাংলাদেশের জনগণ কখনোই সন্ত্রাসবাদকে গ্রহণ করবেনা।
উল্লেখ্য আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল কায়েদার বর্তমান নেতা জাওয়াহিরি কথিত এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশে ‘ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তা প্রতিরোধের আহ্বান জানান। শনিবার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তুমুল আলোচনার ঝড় তুলে। চট্টগ্রাম সফরে এসে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।




