শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরদের বিক্ষোভ

টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরদের বিক্ষোভ

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক এস.এম আনোয়ারুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিতে শুক্রবার সকালে রক্তমাখা জামা নিয়ে বিক্ষোভ করেছে কেন্দ্রের নিবাসীরা। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন আজ দুপুরে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও নিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন।

সূত্র জানায়, নিবাসীরা তদন্ত কমিটির কাছে তাদের ওপর নির্যাতন, নিম্মমানের খাবার পরিবেশন ও পরিবাবেরর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে না দেয়াসহ ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও আরো দুই জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে প্যান্টের পরিবর্তে লুঙ্গি, অগোছালো জামা-কাপড় তথা নিয়ম-শৃঙ্খলা অনুযায়ী না চলার অজুহাতে কিশোরদের মারধর করা, খাবারের নির্ধারিত ম্যানু অনুসরণ না করে প্রতি বেলায় শুধু ডাল-ভাত পরিবেশন করা, অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে হয়রানির পর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা, ঘুষের বিনিময়ে সাক্ষাত ইত্যাদি।
তদন্তের বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ারুল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে আনোয়ারুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিস দেয়া হয়।
আনোয়ারুল করিম দাবি করে বলেন, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০০৯ সালে কর্তৃপক্ষ বিদ্রোহ থামাতে কেন্দ্র খালি করে কিশোরদেরকে অন্যত্র স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছিল।
কিশোরদের চর থাপ্পর দিয়ে শাষণ করার কথা স্বীকার করে আনোয়ারুল করিম বলেন, ২০ জন উশৃংখল কিশোরের কাছে ৩০০ কিশোর জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। বয়সে বড় কিশোরেরা ছোটদের বলাৎকারসহ নানা ধরনের নির্যাতন করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ছোটদেরকে নির্যাতনের কারণে বড় কিশোরদের আলাদা কক্ষে নিয়ে রাখা হয়। বাহির থেকে যেসব জানালার ফাঁক দিয়ে মাদক দ্রব্যসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দেয়া হতো টিনের বেঁড়া দিয়ে সেসব ফাঁক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হানিফ ও রাজীব নামের দুই জন কিশোর কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়ে ফেরার সময় মুড়িসহ খাদ্য দ্রব্যের সাথে মাদক দ্রব্য মিশিয়ে নিয়ে আসতো। গেটে এগুলো ধরা পড়ার পর এই দুই কিশোর ও তাদের অভিভাকদেরকে বার বার সতর্কও করা হয়েছে। এমনকি এধরনের কাজ না করার জন্য গত মঙ্গলবার হানিফের বড় ভাইয়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়। এসব কড়াকড়ির কারণে উশৃঙ্খল কিশোরেরা পরিকল্পিতভাবে মঙ্গলবার রাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ