স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
শেষ ওভারে চাই ১৭ রান। পাহাড় বাধা টপকানোর মতোই কঠিন। তবে টি-টোয়েন্টিতে অসম্ভবও নয়। স্ট্রাইকিং প্রান্তে এনামুল হক, ৪৪ রানে অপরাজিত। থিসারা পেরেরা করতে এলেন শেষ ওভারটি। প্রথম বলেই চার! পরের বলে ২। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেই প্রথম ফিফটি পেয়ে গেলেন এনামুল। কিন্তু কোনো উদযাপন নেই। কাজ যে তখনো বাকি।
তৃতীয় বলে ভুল বোঝাবুঝি। ফরহাদ রেজা এক রান নিতে চাইলেন। রানটা নেওয়া যেত। কিন্তু এনামুলই থাকতে চাইলেন স্ট্রাইকে। রান আউট ফরহাদ। শেষ তিন বলে দরকার ১১। প্রতি বলেই চাই চার। সম্ভব?
চতুর্থ ও পঞ্চম বলে কাভার দিয়ে পর পর দুটো চার। শ্রীলঙ্কান অংশটুকু বাদ দিয়ে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পুরোটাই নাচছে। নাচছে পুরো বাংলাদেশ। প্রার্থনাও করছে। শেষ বলে দরকার তিন। দুই হলেও ম্যাচটা ‘টাই’। কিন্তু না। ফুলটসটা আর কাজে লাগাতে পারলেন না এনামুল। বোলারের হাতেই ক্যাচ দিলেন। ফুলটসটা কোমরের ওপরের উচ্চতায় ছিল কিনা, এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে আম্পায়ারা বৈধ বলের রায় দেওয়াতেই শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ রানে ম্যাচ হারতে হলো বাংলাদেশকে।
শ্রীলঙ্কা করেছিল ৭ উইকটে ১৬৮, বাংলাদেশ ওই ৭ উইকেটে ১৬৬ রানে আটকে গেল। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ঝোড়ো ফিফটিটার জন্য ম্যাচ সেরা হলেন কুশল পেরেরা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথম ফিফটি করেও পরাজয়ের যন্ত্রণা নিয়ে মাঠ ছাড়লেন এনামুল হক বিজয় (৫৮)।
এত রান তাড়া করে এর আগে জেতেনি বাংলাদেশ। তবে তাই বলে যে জিতবে না, তেমনটাও নয়। নতুন রেকর্ড গড়তে যেমন শুরু দরকার ছিল, তার চেয়েও ভালো শুরু এনে দেয় তামিম ইকবাল ও শামসুর রহমানের ওপেনিং জুটি। ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৫২ রান। সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই শামসুর (২২) ফিরে যান। এর পরই উইকেটে আসেন এনামুল।
এনামুলের সঙ্গে তামিমের জুটিটা জমেনি। অষ্টম ওভারে ফিরে যান তামিমও (৩০)। তবে তৃতীয় উইকেটে সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে ওভারে আটের কাছাকাছি গড়ে ৪৩ রানের জুটি গড়েন এনামুল। তাতে অবশ্য সাকিবের অবদানই বেশি। এনামুল একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলার ভূমিকা নিয়েছিলেন। সাকিবই নিয়েছেন মেরে খেলার ঝুঁকি। আর সেই ঝুঁকি নিতে গিয়েই ২৬ রান করে ফিরলেন কুলাসেকারার বলে বোল্ড হয়ে।
এবার নাসিরের সঙ্গে ২৫ রানের জুটি এনামুলের। রান রেটটাকে একদম আকাশে চড়তে দিল না ওভারে সাড়ে সাত করে রান তোলা এই জুটি। নাসিরের বিদায়ের পর অভিষিক্ত মিঠুনও অভিষেকেই ‘গোল্ডেন ডাক’ (প্রথম বলেই শূন্য) নামের চরম বিব্রতকর অভিজ্ঞতার সঙ্গী হয়ে ফিরলে ম্যাচটা শ্রীলঙ্কার দিকেই গেলে যায়। ফরহাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে আবার এনামুল দলের আশা জাগিয়ে তোলেন। শেষ বল পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন। পারেননি।
বল হাতে বাংলাদেশ আরেকটু ভালো করলে এই আক্ষেপে পুড়তে হতো না। প্রথম ওভারেই তিলকরত্নে দিলশানকে শূন্য রানে ফেরানো। কিন্তু এরপর বাংলাদেশের হাতে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকেনি ম্যাচের। অন্য ওপেনার কুশল পেরেরা যেন ছিলেন খুনে মেজাজে। রীতিমতো ব্যাটে ঝড় তুললেন তিনি। করলেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি। বাংলাদেশের ফিল্ডারদের অসাধারণ কয়েকটি ক্যাচ দলকে আবার লড়াই ফিরিয়ে আনলেও আটে নামা নুয়ান কুলাসেকারার ২১ বলে ৩১ রানের সৌজন্যেই ১৬৮ রান তুলেছে শ্রীলঙ্কা। মাশরাফি, সাকিব এবং অভিষিক্ত আরাফাত সানি নিয়েছেন দুটো করে উইকেট।




